ঈমান ও আমল


২০ জানুয়ারি, ২০২২

অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো এক মহৎ আমল। দুস্থ অসহায় মানুষের সেবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়। রাসুল (সা.) যখন প্রথম মদীনা মুনাওয়ারায় আসেন, তখন বিখ্যাত ইহুদি আলেম আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম নবীজিকে দেখতে যান। উদ্দেশ্য তিনি সত্য নবী কি না তা যাচাই করা? তখনও তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি। প্রথম দেখাতেই বুঝতে পারেন, মুহাম্মাদ (সা.) কোনো মিথ্যা নবুওয়াতের দাবিদার হতে পারেন না। তার অনিন্দ্য দীপ্ত বদনে যে নিষ্পাপত্বের ছাপ, তিনি আর যা হন মিথ্যাবাদী হতে পারেন না। উৎসুক আনসারি সাহাবিদের ভিড় ঠেলে সামনে অগ্রসর হন আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম। প্রিয় নবীজির মুখনিসৃত প্রথম যে বাণী শোনেন তা হচ্ছে এই, হে লোক সকল, তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, মানুষকে খাবার খাওয়াও, সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজে দণ্ডায়মান হও, শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করো [বুখারি,মুসলিম]। অসহায় মানুষকে খাবার খাওয়ানো বা দুস্থ মানুষের সহায়তা এমন আমল যার দ্বারা সহজেই জান্নাতে যাওয়া যায়। কিন্তু এই সহায়তা বা দান সদকা হতে হবে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে। মহান আল্লাহর দরবারে ইখলাস বিহীন দান সদকার কোনো মূল্য নেই। সামান্য দান অনুদানও যদি আল্লাহর জন্য হয়, তাহলে তা দানকারীর নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে। রিয়াকারি বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্য হলে ওহুদ পাহাড় সমান বড় আমলও নষ্ট হয়ে যায়। সওয়াবের বদলে গুনাহের বোঝা বহন করতে হবে তখন। এ জন্যই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন, তোমরা যদি দরিদ্রদেরকে গোপনে দান করো তবে এটিই তোমাদের জন্য উত্তম [সুরা বাকারা আয়াত:২৭১]।