SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ০৪-০১-২০১৮ ০৪:১৩:৫৮

আবারও ফসলহানির শঙ্কায় হাওর অঞ্চলের কৃষকরা

haor-paddy

দফায় দফায় বন্যায় ফসলহারা সুনামগঞ্জের হাওর পাড়ের মানুষেরা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে ছেদ বসায় জলবায়ুর পরিবর্তন। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে হঠাৎ করে লাগাতার বৃষ্টিতে হাওর এলাকার একমাত্র বোরো ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে ফসল ঘরে তোলার সময় এবারও ফসলহানির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নদীর পানি না নামার কারণে এমনটা হচ্ছে। তবে, নদী খননের পরিকল্পনার কথা শোনালেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীরা।

বোরো মৌসুমে এই সময়ে ফসলি মাঠ ধানের গোছায় গোছায় ভরে থাকার কথা। হাওর পাড়ের মানুষেরা পৌষ মাস জুড়ে ব্যস্ত থাকেন ধান চাষে। কিন্তু হঠাৎ করে পৌষ মাস শুরু হওয়ার আগেই কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতে নদীর পানি বেড়ে যায়। এই পানি  ঢোকে হাওরেও।

কৃষকরা বলেন, পানি না সরায় আমরা বীজ রোপন করতে পারছি না আমরা।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, যেসব জায়গাতে রেগুলেটর কাজ করছিল না সেসব জায়গাতে আমরা কাজ করেছি।

গত বছর বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রায় শতভাগ বোরো ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। এ বছরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বোরো আবাদ। এতে কৃষকেরা রয়েছেন শঙ্কায়।  

হাওরপাড়ের কৃষকরা বলেন, এবার অবস্থা খারাপ হলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) স্বপন কুমার সাহা বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রোপণ সম্পন্ন হলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন হাওর পাড়ের বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতি থেকে তাদের বাঁচাতে সরকার সুনামগঞ্জের পাঁচটি নদীর ৯৮ কিলোমিটার খননের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ৬৮ কিলোমিটার খননের জন্য কাজ শুরু হয়েছে। ড্রেজিং কাজ শেষ হলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
 
চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জে দু’লাখ ২২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ১৩ ভাগ জমিতে আবাদ করা হয়েছে। 

বীজতলায় উৎপাদিত বোরো ধানের চারা ২৮ দিনের মধ্যে জমিতে লাগানোর কথা থাকলেও পানি না নামার কারণে এই চারাগুলো লাগানো সম্ভব হয়নি। এতে করে কাঙ্ক্ষিত ফসল না পাওয়ার পাশাপাশি আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা না পাওয়ার আশংকা করছেন কৃষকেরা।