SomoyNews.TV

স্বাস্থ্য

আপডেট- ১৯-১২-২০১৭ ০৭:৩৭:৪২

পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকায় দেশেই হচ্ছে 'বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট'

bone-trans1edt

মাত্র পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকায় ব্লাড ক্যান্সার রোগীরা এখন দেশেই বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে পারছেন। বিদেশে চিকিৎসা ব্যয় ৬ থেকে ১০ গুণ আর দেশে সফলতার হার শতভাগ হওয়ায় চিকিৎসা নিতে স্বস্তি বোধ করছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অর্থের অভাবে এখনো থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়ায় আক্রান্তদের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে এসব রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি ব্যয় কমাতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের।

তিন বছর আগে ডিএমসিতে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন সেলিম। পার্শ্ববর্তী চারটি দেশের ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন খরচ ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা জেনে দেশেই ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কম খরচে দেশেই জটিল এই চিকিৎসা করতে পেরে খুশি দীর্ঘদিন পর ফলোআপে আসা সেলিম।

সেলিম জানান, 'আমি জানতে পারলাম দেশে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা লাগবে। চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে আমি সুস্থ আছি।'

সামর্থ্যের অভাবে অনেকেই মনে জোর না পেয়েও বাধ্য হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ডিএমসিতে। পরে তাদের সুস্থতা ও সফলতার হার দেখে ভুক্তভোগীদের আস্থা বেড়েছে দেশীয় চিকিৎসায়।
এছাড়াও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে আসায় এক রোগী জানান, চিকিৎসকরা বলছে;আমাকে পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে এই চিকিৎসা করা যাবে।

আরেক রোগী জানান, 'আমি ভারতে চেন্নাই গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলাম। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে পারি নাই। আর এখানে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে আমি এখন ভাল আছি।'

কোনো ধরনের অস্ত্রপ্রচার ছাড়াই ৩ সপ্তাহের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রোগীর বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়। পূর্বে সংগৃহীত স্ট্যাম্প সেল পুনরায় রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়, যা ব্লাডে রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক ট্রান্সপ্লান্টেশন ইউনিটে প্রতি মাসে একটি করে ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজে সহকারি অধ্যাপক মাফরুহা আক্তার রুমানা বলেন, 'দু'জন রোগীর দু'টো রোগ মাল্টিমল মাইলোমা ও লিমপো মাইলোমা নিয়ে আমরা চিকিৎসা শুরু করি। আর যখন দু'জনে যখন প্রথমবার ক্যামোথেরাপি মিস করে অথবা এই রোগটা যদি পুনরায় আবার ফিরে আসে তখন আমরা আমাদের ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকি।'  

ঢাকা মেডিকেলের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টে বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা.এম এ খান বলেন, 'এই চিকিৎসার সমস্ত প্রকার উপকরণ বাহির থেকে আনতে হয়। আমাদের ডাক্তার ও নার্স চিকিৎসা সম্পর্কে কোনো অবহিত ছিল না তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই চিকিৎসা শুরু করি।'
 
সাম্প্রতিক জরিপে, বর্তমানে দেশে ২৪ থেকে ২৫ হাজার মানুষের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন প্রয়োজন। চিকিৎসা ব্যয় নাগালের মধ্যে আনতে দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিএমসি পরিচালকের।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগে.জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই রোগের চিকিৎসা আমরা এখন পর্যন্ত কোনো রোগী মারা যায়নি। আমাদের সফলতা শতভাগ।'

২০১৪ সাল থেকে শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত ৩২টি বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি রোগীর ট্রান্সপ্ল্যান্ট ব্যয় ৫ লাখের সঙ্গে সরকার ভর্তুকি হিসেবে দিচ্ছে লক্ষাধিক টাকার ওষুধপত্র। তবে নতুন বছরের শুরুতে ডিএমসিতে অ্যালোজেনিক বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

/এজে