SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ০৮-১১-২০১৭ ০৩:২২:৩৯

শরণার্থী শিবিরের স্কুল ও মাদ্রাসায় প্রাধান্য নেই মিয়ানমারের ভাষার

rohingya-educ

মিয়ানমারে নাগরিকত্বের সঙ্গে শিক্ষা আর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও রোহিঙ্গারা নিজেদের অধিকার হারিয়েছেন অনেক আগেই। কিন্তু শরণার্থী শিবিরগুলোতে ৭২টি স্কুল ও মাদ্রাসায় প্রাধান্য দেয়া হয় না মিয়ানমারের ভাষাকে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে রোহিঙ্গা শিশুদের সে দেশের পাঠ্যক্রমে শিক্ষিত করা প্রয়োজন। স্কুলগুলোর পাশাপাশি নজরদারি রাখতে হবে মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যারা অবস্থান করছেন তাদের বেশিরভাগেরই স্থানীয় বাংলা ভাষায় স্বাচ্ছন্দ্য। এমনকি শরণার্থী স্কুলগুলোতেও মিয়ানমারের ভাষা থাকলেও প্রাধান্য দেয়া হয় বাংলা , ইংরেজি ,আরবি ভাষা। এছাড়া নিজেদের প্রাত্যহিক জীবনেও মিয়ানমারের ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলও শিবিরগুলোতে গুরুত্ব পায় না খুব একটা।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব মিয়ানমারের অস্বীকারের কারণে সে দেশে সব ধরনের মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই ক্যাম্পগুলোতে মিয়ানমারের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন অমরু’র চেয়ারপারসন ড. তাসনীম সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার যে সম্ভাবনা নেই তেমনটা কিন্তু না। এদের ফেরত পাঠানোর গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এদের ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের পরিচিত রাখা।

এছাড়া শরণার্থীরা যখন নিজ দেশে ফিরে যাবেন, তারা যেন মিয়ানমারের আবহের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন সে দিকেও লক্ষ্য রেখে শিক্ষা ও কারিকুলাম পরিকল্পনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। একই সঙ্গে শরণার্থী শিবিরের ৬০ টি মাদ্রাসা শিক্ষাও মনিটরিং এর প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তাদের অধিকার। সেটা যাতে তাদের সেটা ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই না তারা আমাদের মূলধারায় শিক্ষিত হোক। তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। এছাড়া নজরদারি রাখতে হবে মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে। 

এছাড়া তাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন সব উপকরণও থাকতে হবে যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পারেন।

এমএইচ