SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাণিজ্য সময়

আপডেট- ২৮-০১-২০২১ ১৮:০৮:১৭

ব্যবসা সূচকে এবার যথেষ্ট উন্নতি করবে বাংলাদেশ: বিডা চেয়ারম্যান

bida

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বেসরকারি খাত। ব্যক্তিখাতের ব্যবসা বাণিজ্যে ভর করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও আর্থ-সামাজিক নানা সূচক পৌঁছেছে নতুন উচ্চতায়। কিন্তু এদেশে ব্যবসা শুরু করা ও তা চালিয়ে নেয়া এখনো বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে কঠিন বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 

আবাসন খাতের প্রথমসারির প্রতিষ্ঠান রুপায়ন গ্রুপের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা রিয়াজ মাহমুদ বলেন, হাতেগোনা কয়েক ছাড়া বেশিরভাগ খাতেই বিদেশি বিনিয়োগ ঋণ পাওয়া যায় না। আবাসন খাতে কোনো রকম বিদেশি ঋণের সুযোগ নেই। বিডা ও বাংলাদেশ ব্যাংক তা অনুমোদন করে না। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতে আছে, যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি মুদ্রা বা ডলার আয় করে তারাই কেবল এসব বিনিয়োগ ঋণ নিতে পারবে। তারমতে, আমাদের আবাসন খাতের ক্রেতা দেশি তাই বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ না থাকায় কম সুদের বিদেশি ঋণ পাই না। যদি এসব ঋণ পাওয়া যেত তাহলে আরও কম দামে ক্রেতারা ফ্ল্যাট বা বাণিজ্যিক স্পেস কিনতে পারতো।  তারমতে, মৌলিক চাহিদা আবাসন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ সহজ হওয়া উচিৎ। 

এদিকে, আরেক উদ্যোক্তা টিলার নামক এক প্রতিষ্ঠানের নগর পরিকল্পনাবিদ তামজিদুল ইসলাম বলেন, সাধারণ একটা ট্রেড লাইসেন্স যা ব্যবসা শুরুর প্রথম ধাপ। সেখানেও নানা জটিলতা। যারা হোম অফিস করেন,  ফ্রি ল্যান্সিং বা আইটি বেজড কাজ করেন তাদের কেন বাণিজ্যিক এলাকায় অফিসের ঠিকানা দিতে হবে? রাজউকের নীতিমালায় প্রকৌশলী, স্থপতি বা নগরপরিকল্পনাবিদরা আবাসিক এলাকায় অফিস করতে পারবেন বলা থাকলেও ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন তা মানে না। এখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। উদ্যোক্তাদের জন্য সহজে সব সেবার নিশ্চয়তা দিতে হবে। 

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বিডা আয়োজিত এক কর্মশালায় বলা হয়, বিশ্ব ব্যাংকের সহজে ব্যবসা সূচকে বাংলাদেশকে ১৬৮তম অবস্থান থেকে দুই অংকের নিচে নামাতে কাজ চলছে। চলতি বছরের এপ্রিলের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে ব্যবসা শুরু, ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণে অনুমোদন, জমির নিবন্ধনের মতো বিষয়ে নানামুখী সংস্কার কার্যক্রম শেষ হবে। বর্তমানে বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার দিচ্ছে বিভিন্ন সংস্থার  ৪১ টি সেবা। 

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডার চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সময় সংবাদকে বলেন, চলতি বছরের এপ্রিলের মধ্যে কয়েকটি ইন্ডিকেটরের সংস্কার শেষ হবে। এগুলোর বিষয়ে বিশ্বব্যাংক সরাসরি জরিপ করবে জুন-জুলাই মাসে। ব্যবসায়ীরা এসব সংস্কারের সুবিধা সম্পর্কে জানলে এবং তা জরিপে জানালে সূচকে উন্নতি হবে বলে মনে করেন বিডা চেয়ারম্যান। তিনি আশা করেন, অক্টোবরে প্রকাশিত হতে যাওয়া বিশ্ব ব্যাংকের সহজে ব্যবসা সূচকে সার্বিকভাবে এবার ১৯০ দেশের মধ্যে এবার অন্তত দুই অংকে (৯৯ তম) পৌঁছাবে বাংলাদেশ। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করছি, পত্রিকা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিজ্ঞাপনের চিন্তাও আছে। দেশের শীর্ষ ট্রেড বডি এফবিসিসিআই, ডিসিসিআইসহ সবাইকে জানানো হচ্ছে সংস্কার ও বিদ্যমান সেবা সম্পর্কে। 

ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহজীকরণে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিগত সংস্কারেও বিডা ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়। এছাড়া একবার অর্থ পরিশোধে সব সেবা বিডার ওএসএস থেকে সেবা পাবেন উদ্যোক্তারা।