SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ২৮-০১-২০২১ ১৬:২৮:৫২

ক্রাইস্টচার্চের আদলে সিঙ্গাপুরে মসজিদে হামলা পরিকল্পনা, কিশোর আটক

1

১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের মসজিদে ভয়াবহ হামলার ২ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ওইদিনই সিঙ্গাপুরের দুটি মসজিদে হামলার পরিকল্পনা করছিল ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে তাকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ।

ক্রাইস্টচার্চের হত্যাকারী শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্টের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ছুরি নিয়ে হামলা এবং তা সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা ছিল সিঙ্গাপুরের ওই কিশোরের।

দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনে এ যাবৎ আটক হওয়া সবচেয়ে কম বয়সী সে। ওই আইনে ট্রায়াল ছাড়াই জেলে রাখার বিধান রয়েছে।

ক্রাইস্টচার্চ হামলা নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ নির্বিচারে গুলির ঘটনা। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলা চালান ট্যারান্ট। হত্যা করা হয় ৫১ মুসল্লিকে। বতর্মানে প্যারোলহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে ভুগছেন তিনি।

সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমসএইচএ) ১৬ বছর বয়সী দেশটির কিশোর নাগরিকের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি। বলা হয়, সে একজন প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান। চরম ইসলামবিদ্বেষী এবং সংঘাত দ্বারা অনুপ্রাণিত।

কট্টর ডানপন্থী মতবাদে অনুপ্রাণিত হওয়ার অভিযোগে সিঙ্গাপুরে আটকের ঘটনা এটাই প্রথম। দেশটিতে সংঘাত এবং সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বিরল। গেল মাস থেকে ওই কিশোর জেলখানায় রয়েছে।

হামলার পরিকল্পনা

সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত যে ওই কিশোর ট্যারান্টের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছে। ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চ হামলার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনই হামলার পরিকল্পনা ছিল তার। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, ট্যারান্টের হামলার সরাসরি প্রচার করা ভিডিও থেকে একই পরিকল্পনায় অনুপ্রেরণা পায় সে।

অভিযুক্ত কিশোর দুটি মসজিদে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। একটি আসইয়াফা মসজিদ এবং ইউসুফ ঈসাক মসজিদ। দুটি মসজিদই তার বাসার পাশে ছিল।

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই কিশোরের পরিকল্পনা ছিল সে তার বাবার ক্রেডিট কার্ড চুরি করে একটি প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করবে। যা দিয়ে একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে অপরটিতে যাতায়াত করবে। মসজিদ দুটি দেশটির নর্থ আইসল্যান্ডে অবস্থিত। আরও জানানো হয়, কিশোরের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তবে সে গাড়ি চালিয়ে হামলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল।

অভিযুক্ত কিশোর ট্যারান্টের মতো রাইফেল নিয়ে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সিঙ্গাপুরে অস্ত্র আইন কঠোর হওয়ায় স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র কিনতে ব্যর্থ হয় সে। তারপর ছুরি নিয়ে হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

মন্ত্রণালয় জানায়, সে একাই হামলায় অংশ নেয়ার পরিকল্পনা করে। কর্মকর্তারা আরও জানান, হামলার আগে এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানানোর জন্য দুটি লিফলেট তৈরির পরিকল্পনা ছিল তার। তার মধ্যে একটি তৈরি শেষ করে ফেলে সে। যেখানে ২০১৬ সালের ফ্রান্সের নিসের সন্ত্রাসী হামলা এবং তার ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব উল্লেখ করা হয়। তার হামলাকে সংঘাতের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত আচরণ বলে আখ্যা দেয় সে।

সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গেল নভেম্বরে তারা একটি সতর্কবার্তা পায়। তার পরপরই ওই কিশোরকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, হামলা পরিকল্পনার কারণে তার কি হতে পারে সে সম্পর্কে তার আগেই ধারণা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানায়, সে জানতো, হয় হামলার আগেই সে আটক হবে; অথবা হামলার পর পুলিশ তাকে হত্যা করবে। আর এসব জেনেই সে হামলা চালানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে শানমুগাম জানান, সে সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত ছিল। সে জানতো, তাকে জীবন দিতে হতে পারে। তার জন্যও সে প্রস্তুত ছিল।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন ধর্মীয়, মনস্তাত্বিক এবং সামাজিক পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হবে। তার কট্টর মতবাদ সংশোধনের জন্য একজন খ্রিস্টান পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হবে।

শাসমুগান এ মামলাকে ভয়াবহ উদ্বেগজনক আখ্যা দেন। বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনে ২০ বছর বয়সী বেশ কয়েকজন যুবককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন বিধান অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে ইসলামি উগ্রবাদী সন্দেহে ১৭ বছর বয়সী একজনকে আটক করেছিল কর্তৃপক্ষ। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আইনে সবচেয়ে কম বয়সী আটক ব্যক্তি ছিল সে।