SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাণিজ্য সময়

আপডেট- ২৮-০১-২০২১ ১৩:০১:৩৩

করোনার বছরেও গ্রামীণফোনের আয় ১৪ হাজার কোটি টাকা!

gp-jpg-gp

করোনাকালে বেড়েছে মানুষের মোবাইল ফোননির্ভরতা। সামাজিক যোগাযোগ, দাফতরিক কাজকর্ম, চিকিৎসা, লেখাপড়া এমনকি কেনাকাটা-সবকিছুই হচ্ছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে মোবাইল সেবাদাতাদের আয়ে। সদ্যবিদায়ী বছরে দেশের শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোন আয় করেছে ১৩ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। যদিও প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০১৯ সালের তুলনায় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৮ শতাংশ কম হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে গ্রামীণফোন। এতে বলা হয়েছে ২০২০ সালে ২৬ লাখ নতুন গ্রাহক গ্রামীণফোনে যুক্ত হয়েছে যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালের শেষে মোট গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৯০ লাখ যার মধ্যে ৪ কোটি ১৩ লাখ বা ৫২ দশমিক ২ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, ২০২০ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে আমরা ১৪ হাজারের অধিক নেটওয়ার্ক সাইটকে ফোরজিতে রূপান্তর করতে সফল হয়েছি। একই সঙ্গে গ্রাহকপর্যায়ে ফোর জির ব্যবহার ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ  বৃদ্ধি পেয়েছে। এক কোটি ৯৮ লাখ নতুন গ্রাহক ফোর জিতে যোগ দিয়েছে, যা ২০২১ সালে প্রবেশের মুহূর্তে এটি একটি বিশাল মাইলস্টোন। চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক গতি প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় আমাদের কোভিড-১৯ মহামারির কঠিন চ্যালেঞ্জের বছরটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সার্বিকভাবে প্রভাব ফেলেছে। তবে এ সময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে আমরা বেশকিছু রেগুলেটরি বিষয় সমাধান করতে পেরেছি। এ সময়ে নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক ও ডিস্ট্রিবিউশন কার্যক্রম সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি এবং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চতুর্থ প্রান্তিক থেকে নিজস্ব টাওয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করা হয়েছে।

ইয়াসির আজমান আরো বলেন, যেহেতু কোভিড-১৯-এর অনিশ্চয়তা এখনো বিদ্যমান, আমাদের প্রযুক্তি ও ডিজিটাল দক্ষতা দিয়ে এ মহামারি মোকাবিলায় গ্রাহকদের জন্য নতুন নতুন উদ্ভাবন ও সেবা নিয়ে আসতে আমরা বদ্ধপরিকর। অর্থবহ আলোচনায় বিশ্বাস করি যা সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

গ্রামীণফোনের সিএফও ইয়েন্স বেকার বলেন, গ্রামীণফোন ২০২০ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও চতুর্থ প্রান্তিকে কার্যকরী ব্যবসায়িক পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা ১৪ লাখ নতুন গ্রাহক নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। চতুর্থ প্রান্তিকে ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ মার্জিন নিয়ে কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছে এক হাজার ৩৩ কোটি টাকা। ২০২০ সালে আগের বছরের তুলনায় ইন্টারনেট থেকে অর্জিত রাজস্ব বেড়েছে ১৪ শতাংশ এবং ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়েছে ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন, আমরা আনন্দিত যে আমাদের পরিচালনা পর্ষদ আমাদের সম্মানিত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৪ দশমিক ৫ টাকা/প্রতি শেয়ার চূড়ান্ত লভ্যাংশ সুপারিশ করেছেন।

বুধবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদ ২০২০ সালের জন্য শেয়ার প্রতি মোট ২৭ দশমিক ৫ টাকা লভ্যাংশ সুপারিশ করেন। এর ফলে মোট লভ্যাংশ দাঁড়িয়েছে পরিশোধিত মূলধনের ২৭৫ শতাংশ যেটি ২০২০ সালের মোট কর পরবর্তী মুনাফার ৯৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ (১৩০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশসহ)। রেকর্ড তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ যারা শেয়ারহোল্ডার থাকবেন তারা এই লভ্যাংশ পাবেন যা ১৯ এপ্রিল ২০২১ এ অনুষ্ঠতব্য ২৪তম বার্ষিক সাধারণ সভার দিন শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।

চতুর্থ প্রান্তিকে গ্রামীণফোন ৩৯৫ কোটি টাকা (লাইসেন্স ও লিজ ফি বাদে) নেটওয়ার্ক কাভারেজ উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে। গ্রামীফোনের মোট নেটওয়ার্ক সাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৫৪৭। প্রতিষ্ঠানটি কর, ভ্যাট, ডিউটি, ফিস, ফোরজি লাইসেন্স এবং তরঙ্গ বরাদ্দ ফি বাবদ ৯ হাজার ৮২২ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে।