SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাণিজ্য সময়

আপডেট- ২৮-০১-২০২১ ১২:২২:৫৬

এক সময়ের পরিত্যক্ত জমি এখন চায়ের রাজ্য!

tea

চা বাগানের জন্য পাহাড়ি ঢালু জমি লাগবে-এমন ধারণাই যুগ যুগ ধরে প্রচলিত। সমতল ভূমিতে চা উৎপাদন করে এ প্রথা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন পঞ্চগড়ের চাষিরা। শখের বশে নয়, রীতিমতো বাণিজ্যিক উৎপাদনে সফল কয়েকশ’ চাষি। মানসম্মত হওয়ায় বাজার বিস্তৃত হয়েছে বহির্বিশ্বেও। কিন্তু জেলায় 'অকশন মার্কেট' না থাকায় চায়ের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত উৎপাদনকারীরা।

একসময়কার পরিত্যক্ত কিংবা এক ফসলি জমি এখন চায়ের রাজ্য। ২০০২ সালে সাড়ে ৪০০ একর জমির গণ্ডিটা এখন প্রায় ৯ হাজার একরে পৌঁছেছে। গত বছর বড় ৮টি ও ছোট ৫ হাজার ১০০টি বাগান থেকে উৎপাদিত সবুজ পাতা প্রায় সাড়ে চার কোটি কেজি। প্রক্রিয়াজাতের পরে চায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৬ লাখ কেজি। চাষিরা জানান, একবার রোপণের পর ফসল তোলা যায় দীর্ঘদিন।

এক চাষি বলেন, 'জমিগুলো আগে পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে থাকত। আমরা এখন পরিত্যক্ত জমিগুলোলতে চা বাগান করেছি। চায়ের ফলনও খুব ভালো হচ্ছে।।

৪০ দিন পরপর পাতা সংগ্রহ করে বিক্রি হয় ১৮টি চা কারখানায়। এতে নগদ অর্থ পেলেও বিপণন ব্যবস্থায় ঘাটতির অভিযোগ চাষিদের। তাদের দাবি, নিলামে বিক্রির জন্য নির্ভরশীলতা চট্টগ্রামের অকশন মার্কেটের ওপর। 

এক চা চাষি বলেন, 'পঞ্চগড়ে যদি সরকারিভাবে একটি চা কলকারখানা দেয় তাহলে নিশ্চয় আমরা আরও স্বাবলম্বী হতে পারব এবং চা চাষে আরও অনেকের আগ্রহ বাড়বে।'

চা বোর্ডের দাবি, স্বতন্ত্র বোর্ড গঠন, কৃষিবিষয়ক পরামর্শসহ শুরু থেকেই নানা প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।

পঞ্চগড় চা বোর্ডের প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, 'আমাদের মোবাইল অ্যাপস রয়েছে যারে মাধ্যমে আমরা চাষিদের সেবা দিয়ে থাকি। এ ছাড়া খোলা স্কুল নামে আমাদের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে যেখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।'

সমতল ভূমির চা বাগান হিসেবে দেশের প্রথম এবং পার্বত্য এলাকা ও বৃহত্তর সিলেটের পর তৃতীয় চা অঞ্চল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে হিমালয়ের পাদদেশে উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়।