SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২৫-০১-২০২১ ২০:০৯:৫৪

‘আমৃত্যু’ অনশনে তারা

onson

চাকরিতে বহাল রাখার দাবিতে চাঁদপুরে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের চারজন প্রশিক্ষক আমৃত্যু অনশন করছেন। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই অনশন শুরু করেন তারা। এসময় অনশনকারীদের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যরাও যোগ দেন।

অনশনকারীদের অভিযোগ, জীবিকায়নের জন্য নারীদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে সারা দেশে তাদের সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্তরা চাকরিতে বহাল থাকলেও ঘুষের বিনিময়ে চাঁদপুরে নতুন করে লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা। 

অনশনরতরা বলেন, আমরা প্রশাসনের দরজায় অনেক ঘুরেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তাই উপায়ন্তর না পেয়ে এখন আমৃত্যু অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছি। তবে আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আমরা এই অনশন চালিয়ে যাবো।

এর আগে, গত রোববার বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। অনশনে অংশ নেওয়া এই চারজন হলেন- ব্লকবাটিক শামীমা নাছরিন, দর্জি বিজ্ঞান সালমা আক্তার, কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানা ও বিউটিফিকেশন রুমা আক্তার। এছাড়া এর মধ্যে হাসনা আক্তার (মোম ও শো পিস) মৃত্যুবরণ করেন।

অনশনে বসা ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, আমরা পাঁচজন প্রশিক্ষক বিগত ২০১৪ সালে মহিলা বিষযক অধিদপ্তরে ট্রেড প্রশিক্ষক পদে যোগদান করেছিলাম। প্রতিবছর আমাদের এই পদের নবায়ন করা হয় এবং সারা দেশে এই প্রকল্পটি চলমান রয়েছে। এ কারণে সরকার এই প্রকল্পটি বাদ দেয়নি বিধায় আমাদেরকেও বাদ দেয়নি। আমরা এখনও চাকরিতে বহাল আছি। শুধু তাই নয়, সারা দেশের ৬৩ জেলায় পুরনো লোকদের দিয়েই কাজ করা হচ্ছে এবং তাদেরকে চাকরিতে বহাল রাখা হয়েছে। তাহলে কেন চাঁদপুরে আমাদের বাদ দিয়ে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি আমি নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করলেও তারা আমাদেরকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়। আমার আবেদনপত্রটিও উধাও হয়ে গেছে।

তারা আরও বলেন, আমাদেরকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। চাঁদপুর মহিলা অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার সাজিয়া আফরিন বারবার আমাদেরকে বাদ দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তিনি নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমাদের পদে নতুন করে লোক নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া চালান। যার প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর নিয়োগের জন্য নতুন করে পরীক্ষা নেন এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন। এগুলো সম্পন্ন হলে তবে আমাদেরকে বাদ দিয়ে নতুনদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাফিয়া ইকবাল আমাদের বলেছেন আমাদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই। তাহলে কেন নতুন করে এমন নিয়োগ দেওয়া হলো।

শামীমা নাছরিন আরও বলেন, আমার নতুন নিয়োগের বিষয়ে মহিলা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং চাঁদপুরের জেলা প্রশাসককে অবহিত করি। তারা সকলেই আমাদের বক্তব্য শুনে আমাদের পক্ষে সুপারিশ করেন। এমনকি ইতিপূর্বে আমাদের স্থানীয় সাংসদ ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে বিষয়টি অবগত করলে তিনিও আমাদের পক্ষে সুপারিশ করেন।

বিউটিফিকেশন রুমা আক্তার বলেন, আমরা নিয়মিত অফিস করেছি। তারপরও ২০১৮ সাল থেকে আমাদের বেতন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আমাদেরকে যদি অব্যাহতি দিত তাহলে আমি নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতাম। আমাদের উপর এ অন্যায়ের বিচার চাই।

এর আগে গত রোববার চাঁদপুর প্রেসক্লাবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ট্রেড প্রশিক্ষণ নিয়োগ বন্ধের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন এসব ভুক্তভোগীরা। সে সময় প্রশিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, সম্পূর্ণ অনিয়ম তান্ত্রিকভাবে আমাদেরকে চাকরি থেকে সরানোর ষড়যন্ত চলছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন করতে বাধ্য হন তারা। 

তবে এসব বিষয় কোনও কথা বলতে রাজি হননি জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাফিয়া ইকবাল।