SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৫-০১-২০২১ ১৬:১৪:২৭

পিকের দুই সহযোগীর রিমান্ড চাইবে দুদক

pk-halder-255296

পিকে হালদারকে অর্থলোপাটের সহযোগিতা করার অভিযোগে গ্রেফতার পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জল কুমার নন্দী এবং ইন্টার‌ন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হককে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এ তথ্য জানান তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।

এর আগে তাদেরকে রমনা থানা থেকে দুদক কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

রোববার বিকেলে সেগুন বাগিচা থেকে অর্থ, ঋণ কেলেঙ্কারি, পাচার ও পিকে হালদারকে অর্থ লোপাটে সাহায্যের অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা যায়, রাশেদুল ও উজ্জল কুমার নন্দী পিকে হালদারের দীর্ঘদিনের পরিচিত ও সহকর্মী ছিলেন। ২০১০ সালে পিকে হালদার যখন রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি ছিলেন তখন রাশেদুল হক রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ডিএমডি ছিলেন। পিকে হালদার যখন এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন তখন রাশেদুল হক ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এমডি হিসেবে ২০১৫ সালে যোগদান করেন। এমডি হিসেবে যোগ দিয়েই কোনো নিয়ম না মেনেই প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে ২৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছেন, যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো মর্টগেজ ছিল না। এভাবেই লিজিং কোম্পানিটিকে পথে বসায় রাশেদুল।

অন্যদিকে পি কে হালদারের ডাকে সাড়া দিয়ে ২০১৩ সালে প্রথমে এফএএফ ফাইন্যান্স ও পরে পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন উজ্জ্বল কুমার নন্দী। পিকে হালদারের নিয়ন্ত্রণাধীন পরিবারের প্রতিষ্ঠান নর্দান জুট, রহমান কেমিক্যাল, ক্লিউইস্টন ফুডের চেয়ারম্যানের পদ দেন পি কে হালদার। এর মধ্যে নর্দান জুটের দায়িত্বে ছিলেন পিকে হালদারের ভাই প্রিতিশ কুমার হালদার। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে পিপলস লিজিং থেকে পিকে হালদার একাই দু হাজার কোটি টাকা অর্থ ছাড় করিয়ে নেন বলে অভিযোগে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানায় দুদক।

এদিকে, দুপুরে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ে সহযোগিতার অভিযোগে পিকে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম কেএম ইমরুল কায়েশ ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।  

সকালে তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো সালাউদ্দীনের তত্ত্বাবধানে তাকে কাশেমপুর কারাগর থেকে সংস্থাটির সেগুনবাগিচার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বলা হয়, পিকে হালদারের ধানমন্ডির সাড়ে চার কোটি টাকার ফ্ল্যাটটি অবন্তিকা বড়ালের নামে পাওয়া গেছে।

এছাড়া পি কে হালদারের নিয়ন্ত্রণাধীন সুখদা কোম্পানির শেয়ার হোল্ডারও তিনি। সুখদাসহ পারিবারিক বিভিন্ন কোম্পানির নামে পিকে হালদারের মা লীলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাবে যে ১৬৫ কোটি টাকার লেনদেন হয় এবং অর্থপাচার হয় সেখানেও অবন্তিকা বড়ালের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে দুদক। চলতি মাসের ১৩ তারিখে ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

কানাডায় পালিয়ে যাওয়া পিকে হালদার নিজের মা, ভাইসহ পরিবার ও পরিচিতজনদের নামে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান খুলে লোপাট করেছেন ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। এমনকি এসব প্রতিষ্ঠান ছিল নামসর্বস্ব এবং ভুয়া।