SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৫-০১-২০২১ ১৩:১৫:১২

এরশাদকে বাদ দিয়ে ৪০ বছর পর মঞ্জুর হত্যার বিচার শুরু

9-7

১৯৮১ থেকে ২০২১। ৪০ বছর পর আদালতে শুরু হলো মুক্তিযোদ্ধা ও মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলার বিচার কাজ। আগামী ৬ এপ্রিল আলোচিত মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনা তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।  তবে এ মামলার দুই আসামি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। এ দুই আসামি মারা যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দিতে আদালতে দেয়া সম্পূরক চার্জশিট গ্রহণ করে বিচারক এ আদেশ দিয়েছেন। 

অভিযোগ গঠন করা তিন আসামি হলেন-  মেজর (অব.) কাজী এমদাদুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভূইঞা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শামসুর রহমান শামস।

আরও পড়ুন: আবরার হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল

৪০ বছর পর বিচার শুরুর বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আব্দুল্লাহ আবু গণমাধ্যমকে বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সেনা কর্মকর্তার হত্যার ঘটনায় বিচার ৪০ বছর ধরে ঝুলে থাকা দুঃখজনক। বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে এ মামলাটি ডিপ ফ্রিজে রাখা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  শিগগরিই সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত করারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী। 

গত ১২ জানুয়ারি আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিন। ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান রচি মামলাটির অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

১৯৮১ সালের ২ জুন মেজর মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং মৃত্যুর সনদপত্র পেতে দেরি হওয়ায় ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মেজর মঞ্জুরের ভাই আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেন। ঐ বছরের ২৭ জুন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ ৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

তবে এরপর দীর্ঘ ১৯ বছর মামলাটি বিভিন্ন কারণে ঝুলেছিল। বিচার চলাকালে পর্যায়ক্রমে ২২ বিচারক বিচারিক কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। বিভিন্ন কারণে তারা সবাই বদলি হন। ২০১২ সালের ২ অক্টোবর আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন মামলার প্রধান আসামি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

তবে মামলার চার্জশিটভুক্ত অপর দুই আসামি মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শামসুর রহমান শমসেরের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের  নির্দেশে মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকে।