SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৭-০১-২০২১ ১৭:২৪:১৭

কারিগরি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে উস্কানিমূলক বলল বোর্ড

1609833673-polytechnic

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবিতে করা মানববন্ধন ও সমাবেশকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াস বলে উল্লেখ করেছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।

রোববার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে বোর্ডের সচিব ড. মো. জাহেদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওইসব দাবি অযৌক্তিক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, তারা সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে সাধারণ ছাত্র ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন এবং বিভিন্নভাবে উস্কানি প্রদান করছেন যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি যথাসম্ভব কাটিয়ে উঠার জন্য কারিগরি বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিটিভির মাধ্যমে এবং অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করেছে। ইতোমধ্যে ডিপ্লোমা পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাক্রম ও টেকনিক্যাল এডুকেশনের ১ম পর্ব নিয়মিত ও ২য় পর্ব অনিয়মিত/অকৃতকার্য বিষয়ের সমাপনী পরীক্ষা সম্পন্ন করে ফলাফলও প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া, পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরকে দ্বিগুণ করে ফলাফল প্রস্তুত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড শিক্ষার্থীদের চার দফার বিষয়টি পর্যালোচনা করে ইতোমধ্যেই নিন্মোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

সিদ্ধান্তগুলো হল- 

১. ইতোমধ্যে যে একটি সেমিস্টারের সময় নষ্ট হয়েছে সেটি পূরণে কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের আগামী সেমিস্টারসমূহে পরিমার্জিত সিলেবাস প্রণয়নের মাধ্যমে ছয় মাসের পরিবর্তে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহায়তায় চার মাসে সেমিস্টার সম্পন্ন করা হবে। ন্যূনতম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল ষোষণা, অতিরিক্ত সেশন পরিচালনা ইত্যাদি কার্যক্রমও গ্রহণ করা হবে।

২। স্থগিত হওয়া ২য়, ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ পর্বের তাত্ত্বিক পরীক্ষায় অটোপাশ ও ১ম, ৩য়, ৫ম ও ৭ম পর্বের ক্লাস চালু করে শর্ট সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। অটোপাশের নেতিবাচক প্রভাবের কথা চিন্তা করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারিগরি শিক্ষায় অটোপাস দেওয়া হলে তা শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে চাকরিদাতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে। এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক ফলাফল থেকে রক্ষার জন্যই বিকল্প পদ্ধতিতে একটি সংক্ষিপ্ত পরীক্ষা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩। অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহার এবং প্রাইভেট পলিটেকনিকের সেমিস্টার ফি মওকুফ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ ইতোমধ্যেই খুবই সামান্য ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা বিগত বছর সমূহের অর্ধেকেরও কম। কোন প্রতিষ্ঠান এই নিয়মের বাইরে ফি দাবি করলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৪। সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা ছাত্রদের জন্য আসন বরাদ্দের অংশ হিসেবে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, নড়াইল ও খাগড়াছড়িতে চারটি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। চলমান এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষ হলে প্রতি বছর আরও ৩৬০ জন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ০৯টি স্নাতক ডিগ্রি কোর্সে কয়েক হাজার ডিপ্লোমা পাশ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ লাভ করবে, যা পরবর্তিতে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করে বলা হয়, যেসব শিক্ষার্থী সড়ক অবরোধসহ বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে যুক্ত তারা অবিলম্বে এসব পরিত্যাগ করে পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করবে এবং আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এতে সব বিভ্রান্তির অবসান হবে বলেও জানানো হয়।