SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাণিজ্য সময়

আপডেট- ১৩-০১-২০২১ ২১:৩৮:৩৬

করোনাযুদ্ধে বিধ্বস্ত হলিউড বক্স অফিস

hollywood

বলতে পারেন বিশ্বের কোথায় হানা দেয়নি করোনা? এমন কোন জায়গা নেই যেখানে তছনছ করেনি এই ভাইরাসটি। বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার কবলে ফেলে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে সিনেমার আলো ঝলমলে দুনিয়াকেও। এই ভাইরাসটিই হলিউড বক্স অফিসের আয়কে নামিয়ে এনেছে গেল চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে। 

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) হতাশার খামে মুড়িয়ে রঙিন দুনিয়ার এমনই ধূসর খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স।

বলা হচ্ছে, করোনার কারণে সিনেমা হল বন্ধ থাকায় একের এক প্রস্তুতি নিয়েও হলিউডের সিনেমা মুক্তি দিতে না পারায় এক বছর আগের তুলনায় গত বছর ৮০ শতাংশ কমেছে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসের আয়। 

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ভিত্তিক আমেরিকান মিডিয়া পরিমাপ ও বিশ্লেষণকারী সংস্থা কমস্কোর প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলছে, ২০১৯ সালে বিনোদন উপহার দেয়া উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসের ছিল ১১.৪ বিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ১৪০ কোটি ডলার। অথচ ২০২০ সালে তা নেমে আসে মাত্র ২.২ বিলিয়ন বা ২২০ কোটি ডলারে। এই আয় গত প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ১৯৮১ সালে এক বিলিয়নেরও কম আয় করেছিল হলিউডের বক্স অফিস। সুপারম্যান-টু মুক্তি পাওয়া ওই বছর মাত্র ৯১৮ মিলিয়ন বা ৯১ কোটি ৮০ লাখ ডলার আয় এসেছিল হলিউডের সিনেমা থেকে।  

গত মার্চ থেকে করোনা শুধু সিনেমা হল আর স্টুডিও বন্ধ রাখতেই বাধ্য করেনি; বিশ্বের বৃহত্তম সিনেমা থিয়েটার চেইন এএমসি এন্টারটেইনমেন্টসহ ছোট-বড় অনেক প্রযোজনা ও প্রদর্শনী কেন্দ্রকে নামিয়ে এনেছে দেউলিয়ার কাতারে। লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্কের অনেক প্রদর্শনী কেন্দ্র এখনও করোনার তাণ্ডব কাটিয়ে সুদিনের অপেক্ষায় বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। 

নো টাইম টু ডাই, টপ গান:মাভারিক ও অ্যাকশনধর্মী ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস'সহ ২৭৪টির বেশি সিনেমা মুক্তির তারিখ পেছাতে পেছাতে চলে এসেছে ২০২১ সাল। 

গত বছর জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া সনি পিকচার্সের ছবি 'ব্যাড বয়েজ ফর লাইফ' উত্তর আমেরিকার বক্সে এনে দিয়েছে সর্বোচ্চ আয়। সিনেমাটি আয় ছিল ২০৬ মিলিয়ন বা ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অথচ এর আগের বছর ২০১৯ সালে হলিউডের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা 'অ্যাভেঞ্জার্স:এন্ডগেম' ব্ক্স অফিসে এনে দিয়েছে ৮৫৮ মিলিয়ন বা ৮৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২০২০ সালের শীর্ষ আয়ের সিনেমার চেয়ে ২০১৯ সালে বক্স অফিসের শীর্ষে থাকা সিনেমার আয় ছিল চারগুনেরও বেশি। 

থ্রিলার সিনেমা 'টেনেট' গতবছর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে আয় করেছে মাত্র ৫৮ মিলিয়ন বা ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অথচ আশা করা হচ্ছিল এই সিনেমাটিই গ্রীষ্মকালে প্রদর্শনী কেন্দ্রগুলোতে টেনে আনবে দর্শক।  

জার্মান সংবাদ ও তথ্য গবেষণা সংস্থা স্ট্যাটিস্টার তথ্যে দেখা যায়, ২০১৮ সালে হলিউড সিনেমার বক্স অফিস আয় করেছিল ১১.৮৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ১৮৭শ' কোটি ডলার; ২০১৭ সালে করেছিল ১১.০৭ বিলিয়ন ডলার, ২০১৬ সালে ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার, ২০১৫ সালে ১১.১৩ বিলিয়ন ডলার ও ২০১৪ সালে হলিউডের বক্স অফিসের আয় ছিল ১০.৩৬ বিলিয়ন ডলার।