SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাণিজ্য সময়

আপডেট- ০৪-১২-২০২০ ১০:৪৮:২৯

ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন মণিপুরি তাঁতশিল্পীরা

tati

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন উদ্দীপনায় মৌলভীবাজারে মণিপুরি তাঁতশিল্পীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক তৈরির কাজ শুরু করেছেন। তাঁতশিল্পীরা বলছেন, ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় বেচাকেনাও ভালো। তবে উপকরণের দাম চড়া হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

ভোরে তাঁতের খটাখট শব্দে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ মণিপুরি পাড়ার ঘরগুলো ব্যস্ত হয়ে ওঠে। বউ-কন্যা-যুবতী মেয়েরা হাতে হাত রেখে, সুনিপুণ সুতায় বোনেন শাড়ি, থ্রি-পিস, চাদর, মাফলারসহ রঙ-বেরঙের পোশাক। এ কাজ করে বেশ ভালভাবেই সংসার চলছিল তাদের।

কিন্তু বছরের শুরুতে করোনার প্রভাবে বন্ধ হয়ে যায় সব কিছু। এতে তাঁত শিল্পের সাথে জড়িতরা পড়েন চরম বিপাকে। উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ হওয়াতে আর্থিক ক্ষতি হয়। তবে এখন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মণিপুরি তাঁতিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাপড় বুননের কাজ করছেন। ক্রেতাদের চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। বিক্রিও ভালো। তবে তাঁত শিল্পের উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন তারা। 

তাঁতপণ্য উৎপাদনের শুরুতেই ক্রেতার যে আগ্রহ তাতে নয় মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব বলে মনে করেন মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ মণিপুরি কালচারাল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ইবংহাল শ্যামল। 

তিনি বলেন, আট-নয় মাসে যে ক্ষতিগ্রস্ত আমরা হয়েছি, আশা করি তা আমরা পুষিয়ে নিতে পারবো।

অবশ্য সংকট মোকাবেলায় সরকারি ঋণ প্রদানসহ সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান। তিনি বলেন, তাদের সংকটগুলো প্রস্তাবনা আকারে লিখিত দিতে বলেছি। আমরা সেই লিখিত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে অবহিত করবো।  

জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অর্ধলাখ মণিপুরি বসবাস করে। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার তাঁতশিল্পের সাথে জড়িত।