SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৪-১১-২০২০ ১২:৪৩:১৭

তাজরীন অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণ, কারখানা মালিকের শাস্তি দাবি

savar-misil1

ঢাকার আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশন ট্র্যাজেডির আট বছর পূর্তির দিনে নিহতদের স্মরণ করেছেন বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ শ্রমিকরা। এ সময় তারা কারখানাটির মালিক দেলোয়ার হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। 

মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সকালে মিছিল নিয়ে নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনের সামনে জড়ো হন নিহতদের স্বজন, আহত শ্রমিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় নিহতদের স্বজন ও আহতদের পুনর্বাসনে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। পরে নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

আহতদের মধ্যে নারী শ্রমিক সবিতা রানী বলেন, এভাবে ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো ছিল, টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না, সেদিনের ভয়াবহ স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন আমি তৃতীয় তলায় ছিলাম। চারদিকে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ভালোমতো কিছুই দেখতে পারছিলাম না। কয়েকবার উল্টে পড়ে গেছি। পরে ভবনের পেছন দিকে প্লাস্টার করার জন্য বাঁশ বাধা ছিল, আমি সেই বাঁশ দিয়ে নামার সময় ছিটকে নিচে পড়ে মাথা, মেরুদণ্ড ও পায়ে আঘাত পাই। এখন সেই দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছি। 

আরও পড়ুন: তাজরীনে অগ্নিকাণ্ড: দুঃস্বপ্ন আজও তাড়িয়ে বেড়ায়

সবিতা রানী মতো আঞ্জুয়ারা বেগম, সাবিনা খাতুন, হেনা আক্তার, রবিন, শাহনাজসহ আরও অনেক পোশাক শ্রমিক তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন গত আট বছর ধরে। মঙ্গলবার সকালে নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনের সামনে কথা হয় তাদের সঙ্গে।

এর আগে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সাভারের আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১১২ জন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। সাততলা ভবনের তিনটি ফটক তালাবদ্ধ থাকায় জীবন বাঁচাতে সেদিন লাফিয়ে পড়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন হাজারো শ্রমিক। 

ওই ঘটনায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫, ৪৩৬, ৪০৪-এর-ক ও ৩৪ ধারায় ২৫ নভেম্বর আশুলিয়া থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম। 

পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক এ কে এম মহসিনুজ্জামান খান ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে তাজরীন ফ্যাশনের এমডি দেলোয়ারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

আরও পড়ুন: ঋণ প্রদানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেনি আইসিবি: বাংলাদেশ ব্যাংক

চার্জশিটভুক্ত বাকি আসামিরা হলেন-তাজরীন ফ্যাশনের চেয়ারম্যান মাহমুদা আকতার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনারুল, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল-আমিন, স্টোর ইনচার্জ আল-আমিন ও লোডার শামীম মিয়া।

ওই চার্জশিটে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মানুষ হত্যা ও অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। ২০১২ সালেই তাজরীন ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।