SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ০৮-১১-২০২০ ০৯:৪৪:২৮

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের রহস্য জানে না রেলওয়ে

rail-stone

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলা ট্রেনগুলো লক্ষ্য করে দুষ্কৃতিকারীদের পাথর নিক্ষেপের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকায়, রেল যোগাযোগ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রতিদিনই পাথর নিক্ষেপে যাত্রীদের পাশাপাশি রেল কর্মচারীদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসে ৫০টির বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এ রুটে। তবে হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে না পারায় প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী।

ছবি দেখলেই বোঝা যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের উপর দিয়ে কি ঝড় বয়ে গেছে। এভাবেই প্রতিদিন পাথর নিক্ষেপে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে ট্রেনের জানালা। আর আহত হচ্ছেন যাত্রীরা।

করোনা সংক্রমণ কাটিয়ে রেল চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে এই পাথর নিক্ষেপের হার আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে।

আরো পড়ুনঃ পাখি তাড়াতে রাডার বসবে শাহজালাল বিমানবন্দরে

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহা ব্যবস্থাপক সরদার সাহাদাত আলী বলেন, এটা এতোই বেড়ে গেছে যে আমরা নিজেরাই এখন এসব ঘটনা নিয়ে বিব্রত।

গত এক মাসের তথ্যে দেখা গেছে, অভিজাত ট্রেন হিসাবে পরিচিত সোনার বাংলা এক্সপ্রেস এবং সুবর্ণ এক্সপ্রেস ৫ বার করে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছে। এসময় যাত্রী ছাড়াও দু'জন ইঞ্জিন চালক বা লোকো-মাষ্টার এবং একজন গার্ড গুরুতর আহত হন।

ট্রেনের চালকরা বলেন, এটা এখন একটা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পাথরের আঘাতে গ্লাস ভেঙ্গে আমাদের শরীরে আঘাত করছে। 

রেলওয়ের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসছে, আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত যাত্রাপথে সবচেয়ে বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে গার্ড এবং লোকো-মাষ্টাররা চরম আতংকে রয়েছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার সাদেকুর রহমান বলেন, যাত্রীরা আহত হচ্ছেন, ভয় পাচ্ছেন। আমাদের রেলের কর্মকর্তারাও ভয়ে থাকেন।

আরো পড়ুনঃ লুডু খেলা নিয়ে বাজি, দ্বন্দ্বে যুবকের ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ

ব্যবস্থা নিতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে জি আর পি'র কাছে। তবে সীমিত জনবল দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে জানান রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তা নওরোজ হাসান তালুকদার।

তিনি বলেন, পুরো রেললাইন তো পুলিশ দিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা সম্ভব না। যেখানেই এসব ঘটছে সেখানকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি স্থানীয়দের বোঝানোর। 

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ধারণা, শুধু কিশোররাই পাথর নিক্ষেপ করছে না। বাসের যাত্রী কমে যাওয়ায় প্রতিহিংসা বশত: এবং ভেঙে যাওয়া গ্লাস চড়া দামে ঠিক করতে ঠিকাদারদেরও চক্রান্ত হতে পারে।