SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ০৯-০৪-২০২০ ১২:৫৫:১৮

করোনায় অল্প খেতে বললেন মাগুরার মহম্মদপুরের ইউএনও

mizan-pic-pic

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অল্প খাওয়ার অভ্যেস করতে বলেছেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি বলেছেন, অল্প খাওয়ার অভ্যেস করুন কারণ এ অবস্থা দীর্ঘায়ত হবার সমূহ সম্ভাবনা আছে।

ইউএনও’র এমন বক্তব্য ভালোভাবে দেখছেন না উপজেলার অনেকেই। মহম্মদপুরের সচেতন মহল মনে করেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের এমন পরিস্থিতিতে কেউ যেন ক্ষুধায় কষ্ট না পায়। প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে আসার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। যেখানে ইউএনও’র এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অভিযোগ রয়েছে, করোনা দুর্যোগ মুহূর্তে উপজেলার কোথাও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেননি মহম্মদপুরের ইউএনও। মানুষকে সচেতন করতে জোরালো কোনো অভিযানও চালাননি তিনি। ফলে মানুষ আগের মতোই বাজার-ঘাটে ঘোরাফেরা করছে।

সোমবার (০৬ এপ্রিল) আনোয়ার হোসেন শাহীন নামে মহম্মদপুর সদরের এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ইউএনও’র কাছে অনুরোধ করে লেখেন, ‘সম্মানিত ইউএনও স্যারের নিকট আবেদন : মহম্মদপুর সদর বাজারের চাল সবজি ও মাছ ব্যবসায়িদের দূরত্ব তৈরিতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি।’

এই স্ট্যাটাসের রিপ্লাইয়ে ইউএনও মিজানুর রহমান লেখেন, ‘ঘরের বাইরে গিয়ে কোন দূরুত্ব বজায় রেখেই কাজ হবে না। এই মুহুর্তে খুব ই জরুরি ঘরে থাকা। একদিন বাজার করে কয়েক দিন খেতে হবে, এক তরকারি দিয়ে ভাত খাওয়ার চেস্টা করুন, অল্প খাওয়ার অভ্যেস করুন কারণ এ অবস্থা দীর্ঘায়ত হবার সমূহ সম্ভবনা আছে। দয়া করে আরো সচেতন হোন কারো উপর দোষ চাপাবেন না। কে কাজ করলো আর কে কাজ করলো না সেটি নিয়ে বসে থাকার সময় এখন নয়। আপনি কতো টা সচেতন আর কতো নিরাপদে আছেন সেটি নিয়ে ভাবুন, নিজেই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। আমরা সব ই বুঝি কিন্তু মানি না, আবার কেউ কেউ অতি বেশি পরিমানে বুঝি, সুতরাং সরকার কি বললো আর কি আদেশ দিলো সেটি মানার ধৈর্য এই সকল বেশি বোঝনিদার লোকদের নাই। এ দেশবাসীর সব থেকে বড় উপকার হবে যদি কেউ ঘরে থাকেন, সব থেকে বড় দেশ প্রেম হবে যদি কেউ ঘর থাকেন, সব থেকে বড় মানবসেবা হবে যদি কেউ ঘরে থাকেন, এর চেয়ে আর বেশি কিছুই আপনাকে এই মুহূর্তে দিতে হবে না এ জাতিকে।’

কম খাওয়া-বেশি খাওয়ার প্রশ্নে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকছেদুল মোমিন সময় নিউজকে বলেন, করোনা মোকাবিলায় কম বা বেশি খাওয়ার কোনো বাধাধরা নিয়ম নেই। কেউ যদি ভাত না খেয়ে দুধ, ডিম, ফল, মাছ, মাংস, বাদাম অথবা দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এমন খাবার খান তাহলেও চলবে। মোট কথা পুষ্টিকর খাবার খেয়ে পেটভরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যারা পুষ্টিকর খাবার যোগাড় করতে পারবে না। তাদের তো অন্যান্য খাবার খেতেই হবে। শরীর সুস্থ রাখতে হলে নিয়মিত খেতে হবে।

ঢাকা ফরাজি হাসপাতালের ক্লিনিকাল ডায়েটিশিয়ান এবং পুষ্টিবিদ রুবাইয়া রীতি সময় সংবাদকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির সময়ে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। কম খাওয়ার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। শরীর যতটুকু খাবার নিতে পারে ততটুকুই খেতে হবে। বেশি বা কম খাওয়ার দরকার নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহম্মদপুরের এক সংবাদকর্মী জানিয়েছেন, জনগণকে কম খাওয়ার অভ্যাসের কথা বলা মানে তো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করা। যেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে। বাংলাদেশের কেউ না খেয়ে থাকবে না। সবার বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিতে হবে। কেউ যেন ক্ষুধায় কষ্ট না পায়। সেখানে তিনি কীভাবে বলেন, অল্প খাওয়ার অভ্যেস করতে?  মহম্মদপুরের ইউএনও বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়া তো দূরের কথা, তিনি ঘর থেকেই বের হন না। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েই কাজ শেষ করেন। এক কথায় বলা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে ইউএনও মিজানুরের কার্যক্রম ‘শূন্য’।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ইউএনও তার ফেসবুকে আরো একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে তার ব্যর্থতাকেই প্রকাশ করেছেন। মানে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। এখন প্রশ্ন হলো, তিনি যদি নিজের অসহায়ত্ব বা দুর্বলতা প্রকাশ করে কঠোর অভিযানে না গিয়ে ঘরে বসে থাকেন, তাহলে জনগণ কোথায় যাবে। করোনা-ভাইরাস তো আরো ছড়িয়ে পড়বে। যেকোনো ব্যবস্থা তো তাকেই নিতে হবে। তিনি তো উপজেলার অভিভাবক।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কামরুল হাসান সময় সংবাদকে বলেন, মহম্মদপুর শহরে সচেতনতামূলক অভিযানে ইউএনওকে দেখেছি মাঝে মধ্যে। তবে, গ্রামে তিনি কোনো ত্রাণ পাঠিয়েছেন কিনা বা গ্রাম পর্যায়ে তিনি কোনো কার্যক্রম চালিয়েছেন কিনা, তা আমার জানা নাই।

ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে মহম্মদপুরে কোনো ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্ভাবত বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মহম্মদপুরে খাবার পৌঁছানো হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সময় নিউজকে বলেন, তিনি এটা লিখেছেন কিনা, তাতো আমি জানি না। তবে, ইউএনও অল্প খাওয়ার অভ্যাসের কথা বলতেই পারেন না। তিনি যদি বলে থাকেন, তাহলে ঠিক করেননি। করোনা পরিস্থিতিতে অল্প খেলে তো শরীরের ইমিউনিটি কমে যাবে। তখন তো মানুষ আরো বেশি দুর্বল হয়ে পড়বে। এখন তো আরো বেশি বেশি করে খেতে হবে। যাতে শরীর ভালো থাকে।

ফেসবুক স্ট্যাটাসের রিপ্লাই ও কম খাওয়ার অভ্যেস করার বিষয়ে জানার জন্য মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।