SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ০৮-০৪-২০২০ ০৯:০৪:৩৮

করোনায় ভয়াবহ বিপর্যয়ে খুলনার পোল্ট্রি শিল্প

khulna-poultry

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো খুলনাঞ্চলের পোল্ট্রি শিল্প ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কমে গেছে ডিম, মুরগির মাংস এবং দুধের দাম। উৎপাদিত মুরগির বাচ্চা বিক্রি না হওয়ায় মারা যাচ্ছে।

পোল্ট্রি শিল্প মালিকদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ঠিক থাকলেও দাম না পাওয়ায় অব্যাহত লোকসানে অনেক খামারি সর্বস্বান্ত হয়ে যাবে। কর্মহীন হয়ে যাবে অসংখ্য মানুষ।

জি এম শফিকুল ইসলাম, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে খুলনার ডুমুরিয়া এলাকায় তিল তিল পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছেন স্বপ্নের এস এস ইন্টারন্যাশনাল এগ্রো। কর্মচারীর পাশাপাশি নিজ হাতে পরিচর্যা করেন মুরগির। ১৮ হাজার ধারণ ক্ষমতার এ খামারে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬ হাজার ডিম উৎপাদিত হয়। কিন্তু পরিবহন স্বল্পতা এবং ভুল তথ্য দিয়ে ছড়ানো করোনা গুজবে মুরগি ও ডিম বিক্রি আশংকাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে কপালে এখন তার চিন্তার ভাঁজ।

শুধু শফিকুল নন, এমন অবস্থা খুলনাঞ্চলের সকল ছোট-বড় পোল্ট্রি খামার মালিকদের। তাদের দাবি ডিমও মুরগির দাম না পাওয়ায় প্রতিদিন তাদের বড় ধরণের লোকসান গুণতে হচ্ছে। যেখানে একটি ডিম উৎপাদনে ব্যয় হয় ৬ টাকা ৫০ পয়সা, সেখানে বিক্রি করতে হচ্ছে ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির মাংস কেজি প্রতি উৎপাদন খরচ ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। আর বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া গাড়ি ভাড়া বেড়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি। আর পোল্ট্রি খাবারের দামও ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পোল্ট্রি ফিস ফিড মালিক সমিতির নেতারা এ শিল্প রক্ষায় সরকারের কাছে সহায়তার দাবি জানিয়েছেন পোল্ট্রি ফিস ফিড মালিক সমিতির খুলনা বিভাগের মহাসচির এস এম সোহরাব হোসেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এস এম আউয়াল হক জানান, পোল্ট্রি শিল্পের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হয়েছে।

খুলনা জেলায় দৈনিক ডিমের উৎপাদন ৬ লাখ, চাহিদা ২ লাখ। অপরদিকে মুরগি উৎপাদন ৪২ মেট্রিক টন। আর দরকার ১৮ থেকে ২০ মেট্রিক টন।