SomoyNews.TV

স্বাস্থ্য

আপডেট- ০২-০৪-২০২০ ১২:৫১:৫৭

ত্রিফলাসহ ভেষজে সারবে করোনা, দাবি গবেষকের

vesoj-corona

প্রকৃতির কোনো জিনিসই অবহেলার নয় বলে জানালেন বায়োকেমিস্ট রাজাগোপাল চট্টোপাধ্যায়। তার মতে গবেষকরা গাছগাছড়ার ভেষজ গুণকে গুরুত্ব দেন না। অথচ গ্রামবাংলায় সহজলভ্য এমন বহু গাছ আছে যার সঠিক প্রয়োগে জটিলতর অসুখে আশ্চর্যভাবে কার্যকর হতে পারে।

আমলকি, হরীতকী, বহেড়া-এ তিনটি ফল বহু দিন ধরেই ত্রিফলা নামে পরিচিত। শারীরিক বহু সমস্যাতেই ত্রিফলার ব্যবহার বহু দিন ধরেই সুবিদিত। এ সব উপাদান দিয়ে তৈরি ওষুধ যে ক্যানসারে কার্যকরী, তার প্রমাণ পেয়েছেন রাজাগোপাল চট্টোপাধ্যায় নিজে। তার মা ক্যানসার আক্রান্ত ছিলেন। রাজাগোপালের দাবি, তার বন্ধুর তৈরি ওষুধে উপকৃত হয়েছিলেন তার মা। কিন্তু নানা জটিলতায় এ ওষুধের কোনও পেটেন্ট নেয়া হয়নি। তার প্রয়োগ সীমাবদ্ধ আছে গবেষকদের পরিচিত বৃত্তের মধ্যেই। এ ভেষজে করোনাভাইরাসকে সারানো যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

আক্ষেপের গলায় রাজাগোপাল বলেন, আমাদের দেশের গবেষকরা এ দেশীয় গাছগাছড়ার গুণাগুণকে গুরুত্ব দেন না। এ উপাদানগুলোকে নিয়ে গবেষণা আরও বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ হোক। বিশেষত করোনা ভাইরাসের এ সঙ্কটকালে।

ফরাসি ভাষায় ‘নুভেল’ শব্দের অর্থ নতুন। ‘করোনা’ শব্দের অর্থ সূর্যের ছটা। অর্থাৎ সূর্যের নতুন ছটা। অনুবীক্ষণের নিচে জীবাণুর রূপ দেখে এ নামকরণই করেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু বিশ্বব্যাপী এ আক্রমণকে কীভাবে প্রতিরোধ করতে পারে ভারতীয় উদ্ভিদ? বায়োকেমিস্ট রাজাগোপাল চট্টোপাধ্যায়ের জানান, করোনাভাইরাসকে আটকাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারে এ ভেষজগুলো। যে কোনও জীবাণু তার জিনগত বৈশিষ্ট্য বহন করে ডিএনএ অথবা আরএনএ রূপে। করোনা হলো আরএনএ ভাইরাস। ফলে এর মিউটেশনের হার অত্যন্ত বেশি।

সেক্ষেত্রে করোনার বিস্তার হ্রাসে রোধ করতে হবে এর আরএনএ সিন্থেথিস। এ কাজে এই উদ্ভিদগুলোর ভেষজ উপাদান কার্যকর হবে বলেই রাজাগোপাল চট্টোপাধ্যায়ের ধারণা। কারণ ক্যানসারের ক্ষেত্রে যেমন ডিএনএ-র উপাদানগুলো ভেষজ নির্যাসগুলোর প্রভাবে ধ্বংস হয়েছিল, করোনার ক্ষেত্রেও আরএনএর নির্মাণে যে উপাদানগুলো জরুরি, যেমন নিউক্লিওসাইড ও নিউক্লিওটাইডগুলি, ফেনটন বিক্রিয়ার প্রভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, এটা ধরে নিতে পারি। কারণ ডিএনএ এবং আরএনএ-র উপাদানগুলো রাসায়নিক দিক থেকে প্রায় সমতুল্য। কাজেই নির্যাসগুলোর প্রভাবে আরএনএ তৈরি স্তিমিত হবে।

তার আশা, এ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা আগ্রহী হলে আখেরে উপকৃত হবে বিশ্ববাসী। গবেষণাগার থেকে ওষুধ তৈরি এক দীর্ঘ পথ। তার আগে করোনাত্রাসের আবহে এ ভেষজ উপাদানগুলো বিশেষ উপকারী বলে তিনি মনে করেন। তাই প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত করতে তার পরামর্শ, নিয়মিত আমলকি, হরীতকী, বহেড়া, খয়ের, বিলিতি আমড়া খাওয়ার। বিলিতি আমড়া মরসুমি ফল। খুব বেশি দিন ধরে পাওয়া যায় না। পরিবর্তে, খাওয়া যেতে পারে বেদানা বা ডালিম। কারণ অন্যান্য ভেষজগুলোর মতো এতেও পলিফিনলিক অণুর প্রাচুর্য ও অ্যান্টি ক্যানসার গুণ পাওয়া গেছে।

ডিএনএ তৈরিতে ওই পাঁচটি ভেষজ বাধা দেয় জানার পরেও রাজাগোপাল কৌতূহলী হয়েছিলেন প্রোটিন তৈরির কাজে এগুলোর কোনও প্রভাব আছে কি না-তা জানার জন্য। যেহেতু ভারতে এটি সঠিক ভাবে মাপার পারদর্শিতার অভাব, জাপানের এহিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক  ইয়েটা এনডোকে বহেড়া, আমলকি, খয়ের ও বিলিতি আমড়া থেকে প্রস্তুত নির্যাসগুলো পাঠিয়েছিলেন রাজাগোপাল। জাপান থেকে পরীক্ষা করে, তার ফলাফলও পাঠিয়ে দিয়েছেন এনডো। তাতে দেখা যাচ্ছে, বহেড়া ও খয়ের ২০০ মাইক্রোগ্রাম প্রতি মিলিলিটার থাকলে, প্রোটিন তৈরির হার সাধারণের তুলনায় ১৮% ও ২১%  হয়ে গেছে। যদিও হরীতকীর নির্যাস পরিমাণে অল্প থাকায় এনডোকে পাঠানো যায়নি, বহেড়ার যৌগগুলোর সঙ্গে হরীতকীর বিশাল সাদৃশ্য থাকায় অনুমেয় যে, হরীতকীর ক্ষেত্রেও একই ফল মিলবে।

সূত্র: আনন্দবাজার