SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২৬-০৩-২০২০ ২২:০৩:৩৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একদিনে চার ছিনতাই ঘটনা

b-bari

করোনা ভাইরাস ঝুঁকির কারণে সবকিছু বন্ধ থাকায় একদিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে চারটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) শহরের দক্ষিণ পৈরতলা ও পূর্ব মেড্ডা এলাকায় এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ফাঁকা শহরে পুলিশ ব্যস্ত জনগণকে গৃহস্থ করার কাজে। হয়তো এর ফাঁকে ফাঁকা শহরে কিছু ঘটতে পারে। আমরা আরো তৎপর হবো।                                                                                                                                                  

 স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগীরা জানান, সকাল ৭টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বাইপাস দিয়ে সিলেট থেকে পাথর বোঝাই একটি ট্রাক চট্টগ্রাম যাচ্ছিল। শহরের বাইপাস পৈরতলা এলাকায় ট্রাকটি পৌঁছালে টায়ারের হাওয়া বের হয়ে যায়। সড়কের পাশে ট্রাকটি দাঁড় করিয়ে চালক-হেলপার সেটি ঠিক করার চেষ্টা করেন।

এ সময়  সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশা করে ৩ জন যুবক এসে ট্রাকের চালক মো. সাহেব আলী ও হেলপার সঞ্জুকে ছুঁড়ি ধরে তাদের সঙ্গে থাকা ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

এদিকে, বেলা ১২টার দিকে দক্ষিণ পৈরতলা বাসস্ট্যান্ডে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় সিলেটগামী তিন জন যুবককে গাড়িতে তুলে দেয়ার কথা বলে নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। পরে তাদের কাছে থাকা টাকা পয়সা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

ছিনতাইয়ের স্বীকার হওয়া তিন যুবকের একজন মিল্লাত বলেন, আমাদের বাসে তুলে দিবে বলে কয়েক যুবক চৌরাস্তা থেকে পৈরতলা ব্রিজের কাছে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে আমাদের সাথে থাকা সব কিছু রেখে দেয় তারা।

পরে বিষয়টি পৈরতলা মোড়ে ডিউটি করা ট্রাফিক পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে জানান তারা।

এদিকে এই ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে একই জায়গায় জাকির হোসেন নামের এক মাইক্রোবাস চালকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে দক্ষিণ পৈরতলা চৌরাস্তা মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জন আতিকুর শিমুল সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পর দু'জন যুবক এসে বলেন ছিনতাইকারীদের ধরিয়ে দিবে। তবে পুলিশের জব্দ করা মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দিতে হবে। এরপর ওই দুই যুবককে সুযোগ দেয়া হয় ছিনতাইকারীদের ধরিয়ে দেয়ার সহযোগিতা করার জন্যে। এর কিছুক্ষণ পর ওই দুই যুবক ছিনতাইকৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে এনে দেয়।

এরপর ওই দুই যুবককে তাদের মোটরসাইকেলের চাবি দিতে গেলে মোটরসাইকেলে আসল মালিক এসে বলে ওই মোটরসাইকেলটি তাদের নয়। এ সময় ওই দুই যুবক দ্রুত পালিয়ে যায়।

শহর ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (টিআই) মো. নূর বলেন, ঘটনাটি ছিনতাই নয়। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এদিকে দুপুরে জেলা শহরের পূর্ব মেড্ডা এলাকায় রিকশা দিয়ে যাওয়ার সময় রিংকু (৩৫) নামের ঘাটুরার এক ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পরে আহত অবস্থায়  ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ছিনতাইয়ের বিষয়ে আমরা অবগত নই। শুনেছি স্থানীয় যুবকদের মধ্যে একটি মারামারি ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইয়ের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।