SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ২৬-০৩-২০২০ ০৯:২৯:১১

অন্যকে বাঁচিয়ে মরেও অমর ইতালির ফাদার

italy-2

করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত ও আক্রান্তের হার প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ভয়াবহ সঙ্কটের একে অন্যের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। নিজের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও আরেকজনের জীবন বাঁচানোর নজির সৃষ্টি করলেন ইতালির খ্রিষ্টান ধর্মযাজক জুয্যাপো বিআরদালি।

৭২ বছর বয়সী ফাদার  তাকে দেয়া লাইফ সাপোর্ট খুলে অচেনা কম বয়সী এক রোগীকে দেয়ার নির্দেশ দেন। ওই রোগী তার পরিচিত কেউ নন।

ইতালির কাসনিগোর জুভার্নি বাতিসতার একটি চার্চের ফাদার জুয্যাপো বিআরদালি। বিআরদালি গত ১৫ বা ১৬ মার্চ মারা যান বলে খ্রিষ্টানদের পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইনের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

ইতালিতে করোনাভাইরাস ভয়াবহভাবে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসাসেবা দেয়ার পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব দেখা দিয়েছে। দেশটিতে চীন ও রাশিয়া ইতোমধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠিয়েছে।

ফাদার জুয্যাপো ইতালির বার্গামোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ইতালিতে এ শহরটিতে বহু মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আর দেশটিতে অন্তত ৫০ জন খ্রিষ্টান ধর্মযাজক মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে।

জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির হিসাবমতো, ইতালিতে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ১৭৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ৬ হাজার ৮২০ জন। ইতালিতে করোনায় মৃত্যু চীনকে ছাড়িয়ে গেছে।

১২ মার্চ থেকে ইতালির সরকার বেশির ভাগ ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে। এরপরও থামছে না মৃত্যুর মিছিল।

মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার একটি কারণ হতে পারে দেশটির জনসংখ্যায় প্রবীণদের সংখ্যাধিক্য। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালির বাসিন্দাদের প্রায় ২৩ শতাংশের বয়স ৬৫ বা তার বেশি। দেশটিতে বসবাসরত মাঝবয়সী জনসংখ্যা ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এ হার ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ। দ্য লোকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালিতে যারা এ সংক্রমণে মারা গেছে, তাদের বেশির ভাগের বয়স ৮০ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হয় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। এরই মধ্যে বিশ্বের অন্তত ১৯৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫৯ জন। মারা গেছেন ২১ হাজার ১৪৮ জন।

করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন ইতালিতে। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৬৮৩ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ২১০ জন। এ নিয়ে সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৩৮৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৫০৩ জনের।

এছাড়া চীনে মোট ৮১ হাজার ২১৮ জনের শরীরে ধরা পড়েছে নভেল করোনা ভাইরাস, মারা গেছেন ৩ হাজার ২৮১ জন।