SomoyNews.TV

স্বাস্থ্য

আপডেট- ২৬-০৩-২০২০ ০৯:২৪:৫৪

দেশে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ মাত্র ২৯টি

covid-icu

দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর বিপরীতে, করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য রয়েছে মাত্র ২৯টি আইসিইউ শয্যা। যার মধ্যে অর্ধেকই এখনো সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়নি। কবে নাগাদ প্রস্তুত হবে সে বিষয়েও নিশ্চিত করতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তীব্র লোকবল সঙ্কট, প্রশিক্ষণের অভাব এবং সংক্রামক রোগী ব্যবস্থাপনার অনভিজ্ঞতা নির্দিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ফেলেছে চরম বিড়ম্বনায়। স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলায় জেলায় আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, যারা মারা গেছেন তারা বয়স্ক ছিলেন। তাদের অনেকেই অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

করোনায় শনাক্ত হওয়া ষাটোর্ধ আটজনের পাঁচজনই মৃত্যুর শিকার হয়েছেন ইতিমধ্যেই। বর্তমানে সারাদেশে করোনার মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছেন এমন অন্তত ৮০লাখ বয়স্ক মানুষ। অথচ এর বিপরীতে ৫টি হাসপাতালে ২৯টি আইসিইউ বেড প্রস্তুতের কথা জানিয়েছে সরকার।

শেখ হাসিনা গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত আইসিইউ কক্ষে শয্যাও বসানো হয়নি এখনো। ৮টি শয্যা সচল রাখতে ৩টি শিফটে কমপক্ষে ৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজন হলেও ৪জন অ্যানেসথেসিওলোজিস্টের সঙ্গে রয়েছে শুধু দুইজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, চারজন অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার রয়েছেন, তারা আইসিইউতে কাজ করতে পারবেন। তবে প্রশিক্ষণ ছাড়া একজনের সেখানে কাজ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

এ অবস্থায় সারাদেশে শিগগিরই ৫০০ আইসিইউ স্থাপনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণা কতটা যৌক্তিক?

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা পর্যায়ক্রমে আরও ৪০০ আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করতে সক্ষম হব।

ষাটোর্ধদের জীবনের নিশ্চয়তা দিতে প্রতিটি জেলায় আইসিইউ শয্যাযুক্ত অন্তত একটি ডেডিকেটেড হাসপাতাল প্রস্তুতের জোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, ২৯টা গণনাই করা যাবে না। এতে আমরা সিনিয়র সিটিজেনদের সুরক্ষা দিতে পারব না। কোভিডের জন্য যেই হাসপাতালকে নির্ধারণ করব সেগুলোকে পুরোপুরি আইসোলেটেড করতে হবে।

আইসিইউ বেড স্থাপনের পর ওয়ার্ড বয় থেকে শুরু করে চিকিৎসক পর্যন্ত সব স্বাস্থ্যকর্মীর হাসপাতালের ভেতরেই আবাসন সুবিধা নিশ্চিতের আহ্বান বিশ্লেষকদের। অন্যথায় আইসোলেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর হবার আশঙ্কা তাদের।