SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon খেলার সময়

আপডেট- ২৬-০৩-২০২০ ০২:৪৯:৫৫

শহীদ ক্রিকেটার জুয়েল-সংগঠক মুশতাকের স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের দবি

cricket-71

 

শহীদ ক্রিকেটার জুয়েল ও সংগঠক মুশতাককে যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ করছেন তাদের পরিবার ও স্বজনরা। দাবি জানিয়েছেন, মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে দুই শহীদের স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের। তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধে জীবন দেয়া শহীদ জুয়েল-মুশতাককে পরিচয় করিয়ে দিতে ক্রিকেট বোর্ড ও সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তাদের ঘনিষ্ট, সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান।

ক্রিকেট খেলেননি তবে খেলিয়েছেন। আজাদ বয়েজের মুশতাক। এই একটা পরিচয়ের সঙ্গে মিশে ছিলো তার জীবনের সবকিছু। কিন্তু সব ছাপিয়ে তিনি অমরত্বের খাতায় নাম লিখিয়েছেন। জীবন দিয়ে লাল সবুজের ভালোবাসা কিনেছেন।

মুশতাকের হাত ধরে উঠে আসে আব্দুল হালিম চৌধুরী জুয়েল। স্বপ্নময় তরুণের লক্ষ্য ছিলো আকাশ ছোঁয়া। স্বপ্ন ছিলো, অধিনায়ক হওয়ার। কিন্তু, জুয়েল এটাও জানতেন, আগেতো স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে। তারপরই স্বপ্নপূরণ।

সংগঠক মুশতাকের রক্তমাখা মৃত্যুহীন প্রাণটা জুয়েলকে যুদ্ধে যেতে উদ্ধুব্ধ করেছে। বাংলাদেশের অধিনায়ক হওয়ার চেয়ে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানোর নেশা তাকে পেয়ে বসেছিলো। জীবন দিয়ে তিনিও বাংলাদেশের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

শহীদ জুয়েলের বোন সুরাইয়া মুজিব খান বলেন, ছোটবেলায় অনেক দূরন্ত ছিলো কিন্তু বড় হয়ে শান্ত হয়ে গেছিলো। হরতাল হলে বাইরে বের পারতো না, তখন আমরা ভাইবোনেরা বাসায় ক্রিকেট খেলতাম। 

মুক্তিযোদ্ধা ক্রিকেটার রকিবুল হাসান বলেন, আমার রুমমেট ছিলো জুয়েল, আমি তাকে দেখেছি। মুশতাক আমার ক্রিকেটিং গডফাদার ছিলো, আজাদ বয়েজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা।  

শহীদ জুয়েল-মুশতাকের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আছে টাইগার ক্রিকেট। দু'জনের নামে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দুটি স্ট্যান্ড আছে। স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে সাবেক ক্রিকেটাররা তাদের স্মরণে প্রীতি ম্যাচ খেলে থাকেন। কিন্তু এর বাইরে দুই শহীদকে স্মরণ করা হয় কালেভদ্রে। পরিবার ও স্বজনদের তাই আক্ষেপ আছে। বরাবরের মতো কিছু দাবিও আছে।

জুয়েলের বোনের দাবি তার জন্যে মুর‌্যাল তৈরি করা হোক। সেইসঙ্গে তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী দেয়া হোক। যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম তাদের সম্পর্কে জানতে পারে।
 
শহীদ জুয়েল মুশতাক আর বাংলাদেশ ক্রিকেট। একই সত্ত্বা। দুই শহীদ থাকুক স্মৃতিতে, থাকুক স্মরণে।