SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২৫-০৩-২০২০ ২৩:৩৫:২৪

ওসি’র বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

n

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দপ্তর সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম লালুকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনোজিত রায়ের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই মুক্তিযোদ্ধা। 

বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে নবীনগর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা আজাহারুল ইসলাম লালু তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে জরুরি কাজে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে ওই চিকিৎসককে না পেয়ে ফিরে আসার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ইনচার্জ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান আমাকে ডেকে তার অফিসে নিয়ে যান। সেখানে তার সঙ্গে সৌজন্য কথাবার্তার সময় তিনি তার গ্রাম নবীনগর উত্তর পাড়ার গ্রামের একটি বিষয়ে নিয়ে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই সময়ে নবীনগর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ রহিস মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসান ও তার সহযোগী মো. ফারুক, মো. সামছুল হক, জিল্লু মিয়া সহ একদল যুবক হাসপাতালের ওই কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা আমাকে হত্যার হুমকি দেয়।

এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে নবীনগর থানায় অভিযোগ করতে যাই। থানায় প্রবেশ করার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনোজিত রায় এর কক্ষে প্রবেশ করি। এ সময় তিনি কোনো সৌজন্যবোধ না দেখিয়ে কেন এসেছেন? কিসের জন্য এসেছেন? এমন কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই সরাসরি তিনি আমাকে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। 

এক পর্যায়ে তিনি আমাকে বলেন, ‘আপনি কিসের মুক্তিযোদ্ধা?’, কেমন জাতের মুক্তিযোদ্ধা? এখান থেকে বের হন, বলে তাকে বের করে দেন। 

এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার বলেন, লাঞ্ছিত মুক্তিযোদ্ধা আজাহারুল ইসলাম লালু আমার অধীনেই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। 

তিনি জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। গ্রামের একটি মামলা বিষয়ে নিয়ে উভয়পক্ষের মাঝে হাসপাতালে সামান্য তর্কবিতর্ক হয়েছে আমি সেখানে ছিলাম। 

এ ব্যাপারে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ রনোজিত রায় বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলছি বলে ফোন রেখে দেন। 

এদিকে এব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।