SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২২-০৩-২০২০ ১১:৪২:০৭

সহকারী শিক্ষা অফিসারকে হত্যার হুমকি দিলেন প্রধান শিক্ষক

feni

ফেনীর পরশুরামে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মিজানুর রহমানকে প্রাণনাশ ও চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ফুলগাজী উপজেলার শ্রী চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে।
 
শনিবার (২১ মার্চ) পরশুরাম থানায় এমন অভিযোগ দায়ের করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মিজানুর রহমান। অভিযোগকারী শিক্ষা অফিসার জানান, ঘটনার সময় তাকে মারতে তেড়েও আসেন ওই প্রধান শিক্ষক। এ সময় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শারীরিক নির্যাতন থেকে রক্ষা পেলেও সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মিজানুর রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ এবং চোখ উপড়ে ফেলে প্রাণনাশের হুমকি দেন ইকবাল হোসেন। 

পরশুরাম থানায় করা অভিযোগপত্রে মো. মিজানুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেল ৬টার দিকে ইকবাল হোসেন পরশুরাম উপজেলা শিক্ষা অফিসে এসে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করেন ঐ প্রধান শিক্ষক। যার ফলে তাকে শিক্ষা অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পরশুরাম বাজারে বাজার করতে গেলে একা পেয়ে তার চোখ উঠিয়ে ফেলাসহ পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকি দেন এবং মারমুখী আচরণ করেন। পরে বাজারের উপস্থিত লোকজন স্থানীয় দোকানদাররা তাকে রক্ষা করেন।
 
ইকবাল হোসেনের এমন আচরণে জীবন নিয়ে শঙ্কিত এখন তিনি। তিনি জানান, ইকবাল হোসেন ইতোপূর্বে পশ্চিম সাহেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু গত বছরের জুন মাসের ১৯ তারিখ ওই স্কুল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাসেলুল কাদের। এ সময় প্রধান শিক্ষক ইকবালকে অনুপস্থিত পেয়ে এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালকের বরাবরে পাঠিয়েছিলেন। যার ফলে ওই বছরের নভেম্বরের ২৭ তারিখে তদন্ত হয়। ইকবাল হোসেন তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে চলতি বছর ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখ ফুলগাজী উপজেলার শ্রী চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শাস্তি হিসেবে বদলি করা হয়।

মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি ওই বছর ফুলগাজী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বে ছিলাম। ইকবাল হোসেনের ধারনা, তার শাস্তিমূলক বদলির পেছনে আমার ভূমিকা ছিল। প্রকৃতপক্ষে এই বিষয়ে আমার কোন ভূমিকাই ছিল না। এটি ছিল মূলত বিভাগীয় সিদ্ধান্ত।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনসহ বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শওকত হোসেন অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এই বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।