SomoyNews.TV

স্বাস্থ্য

আপডেট- ১৭-০৩-২০২০ ১৯:৫৭:০৮

জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলে নিজেই দলবল নিয়ে শিশু হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

health-min3

করোনা আতঙ্কে সারাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে। মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানগুলোও সীমিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নিজেও বার বার বলছেন, লোকসমাগম এড়িয়ে চলতে। অথচ তিনি নিজেই দলবল নিয়ে শিশু হাসপাতালে গেলেন একটি ওয়ার্ড উদ্বোধন করতে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর শের-ই বাংলা নগরে ঢাকা শিশু হাসপাতালের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ডাক্তার, নার্স কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রটোকল বাহিনীসহ প্রায় দেড়শ’ জনের এক বহর নিয়ে ৬ সিটের ওই ওয়ার্ড উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় চার নম্বর ওয়ার্ডে টাইফয়েড ও নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত প্রায় অর্ধশত শিশু চিকিৎসাধীন ছিলো।

সেখানে সৃষ্ট পরিস্থিতি দেখে ডায়াবেটিক ওয়ার্ড উদ্বোধনের সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা গণমাধ্যম কর্মীরাও বিব্রত হন। করোনা ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই যেখানে মুজিববর্ষের আয়োজন সীমিত করতে বলেছেন। সেখানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং লোকসমাগম উদ্বেগের সৃষ্টি করে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ছয়টি বেডের ওয়ার্ডে যে চারজন রোগী ও তার স্বজনরা ছিলেন তাদের কোনো শিশুই ডায়াবেটিকে আক্রান্ত নয়। টাইফয়েড ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এমন দুজন শিশুর স্বজনের সাথে কথা বলে এমনটা জানা যায়। তারা জানান, তাদের কেউই ডায়াবেটিক ওয়ার্ডের নয়, বরং তারা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের; তাদের এই ওয়ার্ডে আনা হয়েছে মন্ত্রী আসবেন বলে। মন্ত্রী চলে গেলে তারা নিজ নিজ সিটে আবার ফিরে যাবেন।

এ বিষয়টি স্বীকার করে শিশু হর্মনজনিত রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রবি বিশ্বাস জানান, তারা এই অনুষ্ঠানটির ঘোষণা দেন গত ২০ ফেব্রুয়ারি। তখন করোনার এতটা প্রভাব দেখা দেয়নি দেশে। সেক্ষেত্রে আজকের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি আর স্থগিত করা যায়নি মন্ত্রী আসবেন সে কারণে। এমনকি তিনিও মনে করেন, এমন একটি সংবেদনশীল ওয়ার্ডের ভেতরে, বাইরের থেকে লোক আসা ও করোনার প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থাকা অবস্থায় কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে হাসপাতালের ভেতরেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার যেকোনো ধরণের জমায়েত নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে সংবেদনশীল একটি ওয়ার্ডে এতগুলো মানুষ নিয়ে প্রবেশ ও অনুষ্ঠানের আয়োজন কতটা সমীচীন, সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিলো স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাছে।

তিনি জানান, অল্প কিছু লোক এসেছে বাইরে থেকে, বাকিরা সবাই সেখানকার চিকিৎসক ও রোগীদের স্বজন। এসময় মন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের উপর বিরক্ত হয়ে, তাদের সরে যেতে বলেন।