SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৭-০২-২০২০ ১৪:২১:৩৪

মৃত্যুর সাথে লড়ছেন রনি-জান্নাত, নিথর হয়ে গেছে রুশদি

fire-reax

রাজধানীর মগবাজারের আগুনে পুড়ে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন রনি-জান্নাত নামের এক দম্পতি। এদিকে হাসপাতালের মর্গে নিথর শুয়ে আছে তাদের একমাত্র সন্তান রুশদি। চিকিৎসকরা বলছেন, রনি-জান্নাত দম্পতির কেউই শঙ্কা মুক্ত নন।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতের শেষভাগে প্রতিদিনের মতোই স্নিগ্ধ ভোরের অপেক্ষায় ছিলেন মগবাজারের দিলু রোডের বাসার বাসিন্দারা। কিন্তু মুহূর্তের আগুন, আতঙ্ক আর ভীতিতে দিশেহারা করে দেয় সবাইকে। অন্য বাসিন্দাদের মতো হতবিহ্বল শহীদুল কিরমানি রনিও স্ত্রী-সন্তানের হাত ধরে তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। কিন্তু মাঝপথে ঘটে বিপত্তি। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় বাবার কোল থেকে ছিটকে পড়ে চার বছরের রুশদি। সর্বনাশা আগুনের লেলিহান শিখায় আর খুঁজে পাননি প্রিয় সন্তানকে। রনি নিজেও ততোক্ষণে আগুনে পুড়ে নিস্তেজ। দগ্ধ হয়েছেন রুশদির মা জান্নাতুল ফেরদৌসও।

বাবা-মা দুজন যখন বার্ন ইউনিটে লড়ছেন মৃত্যুকে পরাজিত করবেন বলে, ততক্ষণে প্রিয় সন্তান চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় উপস্থিত ছিলেন মেডিকেলের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ। তার বর্ণনায় উঠে আসে তখনকার চিত্র।

চিকিৎসক জানান, রনি-জান্নাত দম্পতির কেউই শঙ্কামুক্ত নন। তবে সবোর্চ্চ চেষ্টা করছেন তারা।

এদিকে এই আগুনে মারা গেছেন লক্ষ্মীপুরের আবদুল কাদের লিটন এবং আরো এক নারী। তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে এমন ঘটনা নতুন কি। জেনে বুঝেই যেন এমন ঝুঁকির সাথে বসবাস রাজধানীবাসীর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনই বাড়ছে এমন ঝুঁকি তবে সে অনুসারে প্রস্তুতি নেই, নেই নিয়ম নীতির তোয়াক্কা। রয়েছে তদারকি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা ও জবাবাদিহিতার অভাব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসিক কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিটি ভবনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আর কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এগিয়ে আসতে হবে নগর কর্তৃপক্ষকে।

তবে ভবনগুলোতে এমন দুর্ঘটনা মোকাবিলায় নিজস্ব সক্ষমতাও নিশ্চিতের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- শহিদুল ইসলাম (৪০) ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৫)। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে শহিদুলের শরীরের ৪৩ ভাগ ও জান্নাতুলের শরীরের ৯৫ ভাগ পুড়ে গেছে বলে ঢাকা মেডিকেল সূত্র জানিয়েছে।

আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়ায় অসুস্থ তিনজন হলেন- সুমাইয়া আক্তার (৩০), মাহাদি (৯) ও মাহমুদুল হাসান (৯ মাস)। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয়। তারা আশঙ্কামুক্ত।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, দগ্ধ দু’জনকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া তিনজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে জানা যায়নি।