SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ২৭-০২-২০২০ ১৩:১৭:৩৯

বদলি করা হলো দিল্লির সেই বিচারপতিকে

delhi-high-court-judge

ভারতের দিল্লিতে সহিংসতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও পুলিশকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করায় দেশটির হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরালিধরকে রাতারাতি বদলি করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মাঝরাতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাকে। সূত্র এনডিটিভি।

দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে গত চার দিন ধরে চলা দাঙ্গায় ৩২ জন নিহত ও দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। দিল্লিজুড়ে এখনও জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা।

আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২শ'রও বেশি মানুষ। শহরটিতে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, দিল্লির পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন তিনি। একাধিক বৈঠক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন- সিএএ নিয়ে বিদ্বেষ ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশকে এফআইআর দায়ের করতে নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট।

অনুরাগ ঠাকুর, কপিল মিশ্রসহ চারজন বিজেপি নেতার মন্তব্যের পর তাকে বদলি করা হয়েছে।

দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য দিল্লি পুলিশের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। পুলিশ আগে থেকে আরও সক্রিয় হলে পরিস্থিতি এতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেত না, এমনটিই মত সমালোচকদের।

বুধবার ভোরে বিচারপতি মুরালিধরের বাসভবনে বিচারপতি কেএম জোসেফ ও বিচারপতি মুরালিধরের বেঞ্চ অগ্নিগর্ভ রাজধানীতে লাফিয়ে লাফিয়ে মৃত্যুসংখ্যা বাড়তে থাকার জন্য দিল্লি পুলিশকে তিরস্কার করেন। দিল্লি পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না এবং তাদের মধ্যে পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি মুরালিধর।

এই দেশে ১৯৮৪ সালের মতো আরেকটি হত্যাযজ্ঞ ঘটতে দিতে পারি না আমরা, এমন মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লির সরকারকে সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার জন্য বলেছিলেন তিনি।

বুধবার দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে মামলার শুনানির সময় দাঙ্গার কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়া লোকজনের জন্য উপযুক্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

এর পাশাপাশি উত্তরপূর্ব দিল্লিতে দাঙ্গা উস্কে দেয়া ও এর সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য বিজেপির চার নেতা, কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর, অভয় ভার্মা ও প্রাভেশ ভার্মার বিরুদ্ধে কেন মামলা দায়ের করা হয়নি, দিল্লি পুলিশের কাছে তা জানতে চান আদালত।

মামলা দায়ের না করার জন্য যে ‘গুরুতর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে’ তা বিবেচনায় নিতে দিল্লির পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দেন বিচারপতি মুরালিধর।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা তুষার মেহতা, উপযুক্ত সময়ে’ মামলা দায়ের করা হবে বলে আদালতকে প্রবোধ দেয়ার চেষ্টা করলে বিচারপতি মুরালিধর বলেছিলেন, উপযুক্ত সময় কখন জনাব মেহতা? নগর পুড়ছে।

এ বিচারপতির এমন ভূমিকা দেখার পর দিল্লি হাইকোর্টের আইনজীবীরা তাকে ‘দিল্লির রক্ষাকর্তা’ বলে অভিহিত করা শুরু করেন বলে জানায় আনন্দবাজার পত্রিকা।

এনডিটিভি জানায়, বুধবার রাতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি হাইকোর্টের তৃতীয় শীর্ষ এই বিচারপতির বদলির আদেশ ইস্যু করে।

এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি এস মুরলিধরকে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলির সুপরিশ করেছিল ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম। এই সুপারিশের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করেছিলেন দিল্লি হাইকোর্টের আইনজীবীরা। বিচারপতি মুরালিধরকে বদলি করা হলে প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হবে মন্তব্য করে এর তীব নিন্দা করেছিল দিল্লি হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন।

কলেজিয়ামের ওই সুপারিশ মেনেই তার দুই সপ্তাহ পর মুরালিধরকে বদলি করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। একই রাতে দিল্লির পাঁচ আইপিএস কর্মকর্তাকেও বদলি করা হয়।