SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৫-০২-২০২০ ১৬:৩২:৩৯

৫০ সেকেন্ড এদিক-ওদিক হলেই ঘটতো বড় দুর্ঘটনা

biman

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটতে যাচ্ছিল দুই উড়োজাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষ। বিমানবন্দরের রানওয়েতে যখন একটি উড়োজাহাজ অবতরণ করছিল ঠিক একই সময়ে ওই রানওয়েতে অপর একটি উড়োজাহাজ টেকঅফ (উড্ডয়ন) করছিল।

কন্ট্রোল টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানের পাইলটকে ‘উড্ডয়ন হোল্ড (থামা)’ করতে বলা হয়েছিল। কারণ ওই সময়ে ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজকে অবতরণের জন্য অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু বিমানের ফ্লাইটটি টাওয়ারের তথ্য না মেনে উড্ডয়ন শুরু করে।

অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে আকাশে থাকা উড়োজাহাজের পাইলটের বুদ্ধিমত্তায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় দুই এয়ারক্রাফট। এতে তিনশোরও বেশি যাত্রী হতাহতসহ হাজার কোটি টাকা দামের দুই এয়ারক্রাফট ক্র্যাশ হওয়া থেকে রক্ষা পায়। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মাত্র ৫০ সেকেন্ড এদিকে-ওদিক হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হতো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে। জানা গেছে, আকাশে থাকা উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে তখন মাত্র আট থেকে নয়শো ফুট ওপরে ছিল।

কুয়াশার কারণে আকাশ থেকে রানওয়েও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। কুয়াশা কাটিয়ে যখন ল্যান্ড করার জন্য উড়োজাহাজটি রানওয়ের ঠিক কাছাকাছি আসে তখনই দেখা যায় রানওয়ের বিপরীত দিক থেকে বাংলাদেশ বিমানের অপর একটি উড়োজাহাজ টেকঅপের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালের ঘটনা এটি। এদিন সকালে কক্সবাজার যাচ্ছিল বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইট। বোয়িং-৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজের ওই ফ্লাইটে পাইলট হিসেবে ছিলেন ক্যাপ্টেন মুনতাসির ও ফাস্ট অফিসার তানজিন।

টাওয়ার সূত্রে জানা গেছে, কুয়াশার কারণে আগ থেকে উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞা ছিল বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইটির ওপর। শুধু বিদেশ থেকে যেসব ফ্লাইট আসছিল তাদের ল্যান্ড করার অনুমতি দেয়া হচ্ছিল। সকালের দিকে বাইর থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট অবতরণের অনুমতি চায় টাওয়ারের কাছে।

তখন কুয়াশার কারণে রানওয়ে ঠিকমতো দেখা যাচ্ছিল না। তারপরও তারা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইটকে ল্যান্ড করার অনুমতি দেন। তারা মনে করছিলেন রানওয়ে তখন ক্লিয়ার, কোনো উড়োজাহাজ নেই। কিন্তু ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি যখন রানওয়ে ছুঁইছুঁই করছিল তখনই টাওয়ারে ভেসে ওঠে রানওয়েতে দৌড়ানো অবস্থায় থাকা বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইটটির টেকঅপ। তাৎক্ষণিকভাবে তারা ইউএস-বাংলার পাইলটকে ল্যান্ড না করে ব্যাক (ফিরে যাওয়া) করার জন্য জানান।

আর এতেই রক্ষা পায় দুই উড়োজাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষ। টাওয়ারের ওই কর্মকর্তার মতে, যদি কোনো কারণে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি ব্যাক করার সুযোগ না পেত তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত শাহজালালে। উড়োজাহাজ দুটি রক্ষা দূরের কথা কোনো যাত্রীই প্রাণে বাঁচার সুযোগ পেত না।

টাওয়ার সূত্রে আরও জানা গেছে, বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইটটি বেশ কয়েকবার টেকঅপের (উড্ডয়নের) পারমিশন চেয়েছিল। কিন্তু তাদের পারমিশন হোল্ড (বন্ধ) ছিল। 

৭৩৭-এর মতো এতবড় একটি উড়োজাহাজ টাওয়ারে দেখা গেল না কেন এটা তদন্ত করে খুঁজে বের করা উচিত। এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। না হলে এ রকম ঘটনা আরও ঘটতে পারে। এ ঘটনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ সিভিল এভিয়েশনকে দেয়া হয়েছে। অভিযোগটি নিয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছে।