SomoyNews.TV

ভাইরাল

আপডেট- ২১-০২-২০২০ ১৭:২৬:৪১

আত্মহত্যা করতে চায় ৯ বছরের শিশু, ভিডিও ভাইরাল

sishu

আট-দশটা স্বাভাবিক শিশুদের মতো নয় সে। আর এতেই যেন যত আপত্তি! হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠে বন্ধুরা। স্কুলে গেলে করা হয় মশকরা।

অল্প বয়সে সমাজের মানুষের হাসি-হাট্টায় আর যেন কুলিয়ে উঠতে পারছে না ৯ বছরের শিশু কুয়াদেন। বেঁচে থাকতে চায় না সে। তাই মায়ের কাছে শিশুর আবদার, ‘মা, তুমি আমাকে একটা দড়ি এনে দাও। আমি গলায় ফাঁস দিয়ে মরব।’

এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবনে। ছেলের এই কষ্টের কথা ক্যামেরাবন্দি করে তা ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছেন অসহায় মা। চেয়েছেন সকলের সহযোগিতা।

কুয়াদেনের মা চান, বিদ্রুপের শিকার হয়ে আর কোনো শিশু যেন জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে না ফেলে।

অসহায় এই অস্ট্রেলিয়ান মায়ের নাম ইয়ারা বেইলিস। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পীড়াদায়ক এই ভিডিওটি ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেন তিনি। ভিডিওতে স্কুল পড়ুয়া শিশুটিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘আমাকে একটা দড়ি এনে দাও। আমি নিজেকে শেষ করে দেব।’

অত্যন্ত মানবিক আবেদনময়ী ভিডিওটি এ পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি দেখা হয়েছে। ভিডিওতে কুয়াদেনকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমি শুধু আমার বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে চাই। আমি চাই, আমাকে কেউ মেরে ফেলুক।’

শারীরিক ত্রুপি নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হলে কুয়াদেনের মতো অসহায় শিশুদের জীবনে তা যে কত বড় প্রভাব ফেলে সে বিষয়ে মূলত সবাইকে সচেতন করতেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছেন মিসেস বেইলিস।

ভিডিওটি একটি প্রাইভেটকারে ধারণ করা। এতে আরও দেখা যাচ্ছে, শিশুটি সিটে বুক গুঁজে দিয়ে অনবরত কেঁদে যাচ্ছে। তার চোখে-মুখে অসহায়ত্বের ছাপ। মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির ওপর বিদ্রুপের বিরূপ প্রভাব তুলে ধরছেন।

৬ মিনিটের ভিডিও ক্লিপটিতে মাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি সাধারণত বিষয়টা চেপে থাকি। কারণ এটি ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আর চেপে রাখতে পারলাম না। আমি এইমাত্র ছেলেটিকে স্কুল থেকে নিয়ে এলাম এবং দেখলাম তাকে কীভাবে অপমান করা হচ্ছে। আমি বিষয়টি প্রিন্সিপালকে জানিয়েছি। সমাজের লোকদের জানাতে চাই, এ রকম সামাজিক পীড়ন আসলে জীবনে কতটা প্রভাব ফেলে। আমার ছেলেকে তো দেখছেনই।
 
‘দয়া করে আপনাদের শিশুদের এ বিষয়ে শিক্ষা দিন, আপনার পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের এ বিষয়ে শিক্ষা দিন। কারণ, তাদের মাধ্যমেই একেকজন একেকভাবে আমার ছেলের মতো অপমানের শিকার হবে। এখন আপনারা বুঝতে পারছেন, এসব অবুঝ শিশুরা নিজেদের কেন শেষ করে দিচ্ছে’-বলেন মিসেস বেইলিস।

কুয়াদেনের মা মিসেস বেইলিস আদিবাসী অধিকার আদায়ের একজন সক্রিয় কর্মী। অস্ট্রেলিয়ার ট্যাবলয়েড পত্রিকা কুরিয়ার মেইলকে জানান, তার ছেলে কুয়াদেন এর আগেও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। তিন বছর আগে যখন তার বয়স মাত্র ৬ বছর তখন সে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। আমি তাকে বুঝিয়েছি দেখ, তুমি যদি একবার চলে যাও, তাহলে কিন্তু চিরকালের জন্য চলে যাবে। আর ফিরে আসতে পারবে না। তারপরও সে এটা করেই যাচ্ছে।