SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২১-০২-২০২০ ১৫:১৬:২২

সেই স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন ভাষা সংগ্রামী আব্দুল করিম

kurigram

বহতা নদীর মতো কুড়িগ্রাম আদিকাল হতে সৃষ্টি করেছে অনেক ইতিহাস। ধারণ ও লালন করেছে অনেক সুবর্ণ ঐতিহ্য। এখানকার মানুষ দেশের সকল ঐতিহাসিক ঘটনাবর্তের অংশীদার হয়েছেন। ঔপনিবেশিক শাসন আমল থেকে রাজনৈতিক-সামাজিক কল্যাণকর বিপ্লবাত্মক সকল কর্ম তৎপরতার ক্ষেত্রে গৌরবদীপ্ত ভূমিকা রেখেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন এখানকার মানুষ।

সে সময় ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এখানকার ভাষা সংগ্রামীদের মধ্যে কেবল একজনই বেঁচে আছেন।

অ্যাডভোকেট সরকার আব্দুল করিম। বয়স ৮৪। জেলা বারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য। তারপরও বয়স তাকে কাবু করতে পারেনি।

প্রচার বিমুখ মানুষটি এখনও নিয়মিত আদালতে গিয়ে আইন ব্যবসা করছেন। অনিয়মিত হলেও করছেন সাহিত্যচর্চা-লেখালেখি। তিনি এক সময় বাংলা একাডেমির সদস্য ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তার রচিত গল্পগ্রন্থ চৈতালী হাওয়া প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৬৮ সালে তার রচিত নাটক রাতের পৃথিবী মঞ্চস্থ হয়েছিলো। এছাড়া ১৯৫৮ সালে কুড়িগ্রাম থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রভাতীতে 'এই কুড়িগ্রাম' নামে নিবন্ধ লেখার কারণে প্রশাসনের রোষানলে পড়ে সে সময় ২৬ দিন কারাবাস করেছেন।

আব্দুল করিম সরকার ১৯৩৬ সালের ১৯ মার্চ জেলার রাজারহাট উপজেলার কিসামত পুনকর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মেদু মাহমুদ সরকার ও মাতা মরহুমা অরিফুন্নেছা। 

তিনি কুড়িগ্রাম হাই ইংলিশ স্কুল থেকে ১৯৫২ সালে মেট্রিক এবং পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম কলেজ থেকে আইএ এবং বিএ পাশ করেন। এরপর রংপুর আইন কলেজ থেকে এলএলবি পাশ করার পর ১৯৭৩ সালে আইন পেশায় যুক্ত হন।

সরকার আব্দুল করিম বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বলেন, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় কুড়িগ্রাম ছিল মহকুমা। সে সময় এখানে কোনো কলেজ ছিল না। কুড়িগ্রাম ইংলিশ হাইস্কুলের ছাত্ররাই সব আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতেন এবং নেতৃত্ব দিতেন।

ঢাকার ভাষা আন্দোলন এবং ২১ ফেব্রুয়ারির শোকাবহ ঘটনা এখানকার মানুষ জানতে পেরেছিলেন দু'দিন পর। এর কয়েকদিন পর রংপুর কারমাইকেল কলেজে অধ্যয়নরত ভূরুঙ্গামারী উপজেলার অধিবাসী মজিবর রহমান (যিনি প্যাটলা মজিবর নামে পরিচিত ছিলেন) এখানে এসে উদ্বুদ্ধ করলে হাইস্কুলের প্রগতিশীল ছাত্ররা ঝাঁপিয়ে পড়েন ভাষা আন্দোলনে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে এখানকার ছাত্ররা প্রথম সমাবেশটি করেন পুরাতন বাজারের কালীবাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গায়। 

এই সমাবেশ আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন আমান উল্ল্যাহ আহমেদ, সোলায়মান আলী, আব্দুল করিম সরকার, আমজাদ হোসেন, বাদল রুদ্র, বুদ্ধদেব সরখেল, আব্দুল হামিদ ও আব্দুল আহাদ প্রমুখ।

ঝুঁকি নিয়ে ১৯৫৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে চুপিসারে গহওর পার্ক ময়দানের প্রবেশ পথে (বর্তমানে মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রধান ফটক) প্রথম শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেছিলেন।

ছাত্রদের হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা আর শ্রমে কাঁদা মাটি ও ইট দিয়ে তৈরি সেই শহীদ মিনারটির অবয়ব এখনো একই রকম আছে। শুধু বেদির জায়গা একটু বেড়েছে এবং কাঁদার স্থলে লাগানো হয়েছে সিমেন্ট। আর সেই স্মৃতি নিয়ে আজো বেঁচে আছেন ভাষা সংগ্রামী সরকার আব্দুল করিম।