SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২০-০২-২০২০ ২২:০৭:৪০

ওপরের নির্দেশে বন্ধ বিআইডব্লিউটিএ’র উচ্ছেদ!

biwta11

নৌ মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেরাই উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করে দিয়েছে উচ্ছেদকারীরা। 

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তুরাগ নদের গ্রামবাটুলিয়া মৌজার ঢাকা অংশে উচ্ছেদ চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তুরাগ নদের প্রায় আড়াই একর জায়গা দখল করে বিশাল বালু গদির অবৈধ ব্যবসা করছে শারমিন গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। যার মালিক হামিম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে আজাদের ছোট ভাই ইসমাইল হোসেন। যিনি সবসময় নিজেকে সিআইপি ও ঢাকা দক্ষিণের নবনির্বাচিত মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে পরিচয় দেন। 

এদিন সকাল থেকে অবৈধভাবে নদী দখল করা শারমিন গ্রুপের অবৈধ বালুর গদি অপসারণ করছিলো বিআইডব্লিউটিএর দুটি এক্সকাভেটর। এসময় দেখা যায়, বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান হাকিম ও যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনের ফোনে বারবার উচ্ছেদ বন্ধ করতে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসছিলো। তবে তারা তাতে কর্ণপাত না করে বালু অপসারণ অব্যাহত রাখেন।  

পরে বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে বিআইডব্লিউটিএ-র চেয়ারম্যান নিজেই তাদেরকে ফোন করে শারমিন গ্রুপে উচ্ছেদ বন্ধ করে সামনের দিকে চলে যেতে বলে। এতে বিআইডব্লিউটিএ-র কর্মকর্তা কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পুরো উচ্ছেদই বন্ধ করে দেন।

বিশ্বাসযোগ্য একটি সুত্র জানায়, ওই সময় বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের দফতরে শারমিন গ্রুপের মালিক উপস্থিত থেকে তাকে ফোন করতে বাধ্য করেন।

এদিকে বিআইডব্লিউটিএর- এমন দ্বিমুখী আচরণে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, সাধারণ জনগণের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলেও প্রভাবশালীদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাদেরকে ছাড় দিচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ। 

উল্লেখ্য আপিল বিভাগ থেকে এ মাসের তিন তারিখ তুরাগ দখল করে গড়ে তোলা হামিম গ্রুপ ও আনোয়ার গ্রুপের অবৈধ অংশ উচ্ছেদ করার নির্দেশনা আসলেও একই কারণে তা উচ্ছেদ করতে পারে নি বিআইডব্লিউটিএ। সে সময় সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, নৌ মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি না থাকার কারণে তারা হামিম গ্রুপের নিশাত জুটমিল ও আনোয়ার গ্রুপের হোসেন ডাইংয়ের অবৈধ অংশ উচ্ছেদ করতে পারেন নি। 

এসব কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএ-র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, বার বার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের কারণে গত তিন সপ্তাহ ধরে তারা বৈষম্যহীনভাবে তুরাগ পারের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে পারছেন না। যার ফলে সাধারণ জনগণের কাছে পুরো উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। 

এসময় উচ্ছেদকারী কর্মকর্তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে হতাশা প্রকাশ করে জানান, আপিল বিভাগ থেকে নির্দেশনার পরও ওপরের নির্দেশ না থাকার কারণে এতদিনেও তুরাগ পাড়ের নিশাত জুট মিল ও হোসেন ডাইং উচ্ছেদ করতে না পারাটা তাদের জন্য লজ্জার। যা তাদেরকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলেও জানান তিনি।

তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে সময় সংবাদের কাছে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দাবি করেন, হামিম, আনোয়ার  ও শারমিন গ্রুপে উচ্ছেদ বন্ধে তারা কোনো হস্তক্ষেপ করেন নি বা ফোন করে নিষেধ করেন নি। এছাড়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো চাপ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে বিআইডব্লিউটিএ-র অভিযান চলবে। ঢাকার চারপাশের নদী দখলমুক্ত করা হবে।

যদিও মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, নৌ প্রতিমন্ত্রীকে হামিম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও আনোয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান তাদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করতে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে তাকে বাধ্য করিয়েছেন।

আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে ফের তুরাগ পার থেকে উচ্ছেদ চালানোর কথা রয়েছে বিআইডব্লিউটিএ-র।

২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে সাড়াশি অভিযান শুরু করে নদী রক্ষার দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা বিআইডব্লিউটিএ। এতে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে দেশের নামকরা আইনজীবীদের অবৈধ স্থাপনাও। 

প্রতি সপ্তাহে তিনদিন করে টানা ৫০ দিনের অভিযানে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে শতাধিক একর নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেয় বিআইডব্লিউটিএ। 

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের চার তারিখ থেকে দ্বিতীয় দফায় নদী দখলমুক্ত করতে বিশেষ অভিযানে নামে বিআইডব্লিউটিএ। এ পর্যায়েও তুরাগের টঙ্গি পাড়ের মসজিদ মার্কেটসহ অসংখ্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় সংস্থাটি।