SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৯-০২-২০২০ ১০:২৪:১৭

চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি: ৯ বারেও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ পুলিশ

fire-case

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড় অগ্নিকাণ্ডের একবছরেও শুরু হয়নি মামলার বিচার। ৯ দফা সময় নিলেও বিচারিক আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। এ সুযোগে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হয়েছেন প্রধান দুই আসামি। আর তাই ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কিত স্বজনহারা পরিবারগুলো।

চুড়িহাট্টার ভয়াবহ আগুনে হারিয়েছেন আদরের দুই সন্তানকে। কিন্তু যারা সেই অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী তারাই শ্বাস নিচ্ছে মুক্ত বাতাসে। যা মানতে পারছেন না সন্তানহারা বাবা সাহেব উল্লাহ।

তিনি দাবি জানান, দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার।

ঝুঁকি জেনেও বেশি টাকার লোভে আবাসিক ভবনে ভাড়া দেয়া হয়েছিলো রাসায়নিক কারখানার গোডাউন। আদালতে এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় মামলার প্রধান দুই আসামি ভবন মালিকের দুই ছেলে। কিন্তু এরপরও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় শুরু হচ্ছে না মামলার বিচারকাজ।

ঢাকা মহানগর  দায়রা জজ আদালতের পিপি আবু আবদুল্লাহ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার একটা নির্ভুল প্রতিবেদন আমরা আশা করবো। দ্রুতই মামলার চার্জশিট দখিল করবে এটাও আশা করছি।  

এরইমধ্যে হাইকোর্ট থেকে দু দফায় দেড় বছরের জন্য জামিন নিয়েছে দুই আসামি। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে মামলার তদন্তে কাজ চলছে। তবে ঠিক কবে কাজ শেষ হবে তার সদুত্তর মেলেনি।

প্রসঙ্গত গত বছর ২০ ফেব্রুয়ারি রাতের সেই আগুন কেড়ে নিয়েছে ৭১ জনের প্রাণ, আহত হয়েছেন অনেকেই। কিন্তু কতজন যে দৌড়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তার সঠিক সংখ্যা জানা নেই কারও। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও ধুঁকছেন শরীরে পোড়া ক্ষত নিয়ে, কেউ গ্রামে গিয়ে আর ফেরেননি, ফেরার ইচ্ছাও নেই তাদের।

ওই রাতে চুড়িহাট্টা মোড়ে চারতলা ওয়াহেদ ম্যানশন নামের একটি ভবন থেকে আগুন লাগার পর খুব দ্রুতই আশপাশের কয়েকটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

গায়ে গায়ে লেগে থাকা ভবনগুলোতে থাকা রাসায়নিক দ্রব্য, প্লাস্টিক ও পারফিউমের দোকান-গুদাম থাকায় মুহূর্তেই গোটা এলাকা পরিণত হয় অগ্নিকুণ্ডে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অনেকে ছাই হয়ে যান। আগুনের প্রচণ্ডতায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় দোকান-পাট, রিকশা-গাড়ি।

ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট ১৪ ঘণ্টার চেষ্টায় যখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, ততক্ষণে শ্মশানে পরিণত হয় চুড়িহাট্টা। ঘটনাস্থল থেকে ৬৭ জনের পোড়া লাশ মর্গে পাঠান উদ্ধারকর্মীরা। পরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে।