SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১৮-০২-২০২০ ২২:০২:৫৮

ব্যাংকার থেকে সফল চাষী

kirishok

আব্দুল হান্নান। বয়স ষাটের বেশি। মূলত তিনি একজন উচ্চপদস্থ ব্যাংকার। শখের বসে কাজের ফাঁকে চাষাবাদ করে একরকম পাল্টে গেছে তার ব্যাংকার জীবনের পরিচয়। তিনি এখন একজন সফল চাষি। বাড়ির আঙ্গিনা জুড়ে এমনকি পরিত্যক্ত জমিতে সারা বছরই তিনি ফল-ফলাদির চাষাবাদ করেন। কথা হয় আব্দুল হান্নানের সঙ্গে।

তিনি জানান, সেই স্কুল পড়ুয়া অবস্থায় তার ফল-ফলাদির গাছ লাগানোর একটা শখ ছিলো। তখন টুকটাক বাড়িতে গাছ লাগাতেন। এক সময় কর্ম জীবনে ব্যাংকের চাকরিতে যাত্রা শুরু। তখন প্রচুর ব্যবম্ততা। কাজের চাপ। তারপরও মাঝে-মধ্যে গাছ-গাছালির যত্ন-আত্ত্বি করেন। সেইমঙ্গে মৌসুমী ফল এমনকি শাক-সবজিও চাষাবাদ করতে থাকেন। 

এভাবে চলতে থাকে তার শখের জীবন। এরইমধ্যে তিনি মাটি, সার, চারা, চাষাবাদ ও চাষের বিভিন্ন উপকরণ বিষয়ে পুরোটাই রপ্ত করে নেন। নিজ থেকেই হয়ে উঠেন একজন কৃষিবিদ। এখন তো তিনি মাঠি দেখে অনায়াসে বলতে পারেন- এ মাটিতে কিসের ঘাটতি। কি করলে, কিভাবে এ মাটিকে উর্বরতা বৃদ্বি করা যায়।

তিনি গত বিশ বছর ধরে নিজে নিজেই কোঁচো থেকে জৈব অর্থাৎ কোঁচো সার তৈরী করছেন। এক সময় তার গ্রাম বাহারমর্দানসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের কাছে এ সার ও কেঁচো বিক্রি করে অনেক অর্থ উপার্জন করেন। সেই সময় আট থেকে দশটি মাটির কৌটা বানিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় কেঁচো থেকে জৈব সার বানাতেন। তবে এখন বিক্রি বা কাউকে দেয়ার জন্য নয়। শুধু মাত্র নিজের প্রয়োজনে কেঁচো সার তৈরী করছেন। 

তিনি জানিয়েছেন, তার এলাকার অনেক কৃষককে এ পদ্ধতি শিখিয়েছেন। অনেকে এখন এ সার জমিতে প্রয়োগ করে লাভবান হয়েছেন। 

আব্দুল হান্নান আরো জানালেন, তিনি প্রতি বছর তার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের চাহিদা মিটিয়ে প্রায় অর্ধলাখ টাকার শীতকালীন সবজি বিক্রি করে থাকেন। এ বছর তার ক্ষেতের জমিতে চায়নিজ পটল, ব্রকলি, টমেটো, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি থেকে শুরু করে সব ধরনের শীতের সবজি চাষাবাদ করেছেন। নতুন হিসেবে এবারই কৃষি বিভাগের বিনামূল্যে দেয়া পেঁয়াজের বীজ লাগিয়েছেন। ইতোমধ্যে ফলনও ভালো হয়েছে। আর ক্ষেতের পাশে ছোট-খাটো পুকুরে তার পছন্দের মাছ চাষও করেছেন। 

আব্দুল হান্নান এর ক্ষেতের ফসল ও চাষের কলাকৌশল দেখে নিতে সম্প্রতি জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত ঘুরে গেছেন। 

তারা বলছেন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহারমর্দান গ্রামের আব্দুল হান্নান মূলত একজন সফল চাষি। তাকে অনুসরণ করে কৃষকরা অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।