SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১৮-০২-২০২০ ১৯:০৯:২৩

বহিষ্কারাদেশ বহাল না কি স্থগিত, ধোঁয়াশায় পবিপ্রবি

potukhali-y

র‌্যাগিং এর ঘটনায় ১৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করায় সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদসহ শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের সাথে শিক্ষার্থীদের যৌথ বৈঠকের পর বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের কথা বললেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেন। এদিকে শিক্ষক সমিতি থেকে ঘোষণা দেন, সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আগামী ২৩ তারিখ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৩ তারিখে শের ই বাংলা হলে সিনিয়ারদের কক্ষে জুনিয়ারদের পেয়ে র‌্যাগিং করে। র‌্যাগিং এর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষো ১৫ শিক্ষার্থীকে এক সেমিষ্টারের জন্য সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন। ১৪ জানুয়ারি ছাত্র শৃঙ্খলা বোর্ডের ৩৭তম সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। ২৩ জানুয়ারি বশ্বিবিদ্যালয়ের রেজিস্টার অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বহিষ্কার করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বহিষ্কৃতরা। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ সহ শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিং এর বিষয় প্রমাণিত না হওয়ায় সোমবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ৮ টার থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই সমাবেশ করে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের সাথে শিক্ষার্থীদের যৌথ বৈঠকের পর বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং কঠিন কোন শাস্তি প্রদান করা হবে না, এমন আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলন তুলে নিয়ে ভিসিকে রাত ৮টার পরে মুক্ত করে বিক্ষোভ সমাবেশ স্থগিত রাখে শিক্ষার্থীরা। এদিকে শিক্ষক সমিতি র‌্যাগিং এর সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন ।

প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা জানান, র‌্যাগিং এর বিষয় আমাদের বড় ভাইদের উপর যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমাদের সাথে তাদের এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি, আমরা তাদের সহযোগিতায় ভাল আছি।

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা জানান,  র‌্যাগিং এর মতো কোন ঘটনা এখানে ঘটেনি, ৭ কর্মদিবসের ভিতরে এর রিপোর্ট দেয়ার কথা থাকলেও তা ১ মাসের মধ্যে না দেওয়ায় আমরা গতকাল রাতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করি। পরে জেলা প্রশাসন এবং ভিসি স্যার ও আমাদের মধ্যে একটি সভা হয়। সভায় সকলকে সাধারন ক্ষমা করে দেওয়ায় আমরা বিক্ষোভ সমাবেশ তুলে নিই। 

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন হোসেন জানান, আমরা র‌্যাগিং মুক্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয় চাই । যতদিন পর্যন্ত এর সুষ্ঠু বিচার না হবে ততদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানালেন এই শিক্ষক।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভাপতি আবুল কাসেম চৌধুরী জানান, র‌্যাগিং এর বিষয়টি হাতে নাতে ধরা হলে তাদেরকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। গত রাতে আমাদের শতাধিক শিক্ষককে তালা বন্ধ করে রাখে। পরে তাৎক্ষণিক শিক্ষক সমিতির এর সভা অনুষ্ঠিত হয়, সভায় সিদ্ধান্ত হয় আগামী ২৩ তারিখের মধ্যে কোন সুষ্ঠু সমাধান না হবে ততদিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষা কার্যক্রমসহ পরীক্ষা বন্ধ রাখা হবে বলে জানালেন এই সভাপতি।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বলেন, ছাত্ররা আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখলে আমরা জেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হলে তারা আসার পর শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেয়। সেই সময় এক সভায় সিদ্ধান্ত হয় আগামী ২৩ তারিখের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার জন্য। রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত র‌্যাগিং এর দায়ে ১৫ শিক্ষার্থীর বহিষ্কার আদেশ তুলে নেয়া হবে না, বহাল থাকবে বলে জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার।

১৩ তারিখে শের ই বাংলা হলে র‌্যাগিং এর ঘটনায় ১৫ শিক্ষার্থী হাতেনাতে ধরা পড়ে। ১৪ জানুয়ারি ছাত্র শৃঙ্খলা বোর্ডের ৩৭তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। ২৩ জানুয়ারি বশ্বিবিদ্যালয়ের রেজিস্টারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে তাদের কেন সেমিষ্টার থেকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করা হবে না, ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।