SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাণিজ্য সময়

আপডেট- ১৭-০২-২০২০ ০৫:৩৪:৩২

ডাকঘরে সঞ্চয় আমানতের সুদহার অর্ধেক, গ্রাহকদের ক্ষোভ

bank

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের আমানতের সুদের হার প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। হঠাৎ করে বড় ধরনের মুনাফা কমানোতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, বয়স্ক, অবসরপ্রাপ্ত ও গৃহিণীদের ক্ষেত্রে এমন সঞ্চয়ে বিশেষ সুদহার থাকা উচিত। তাদের আশঙ্কা, নিরাপদ এ বিনিয়োগ মাধ্যমে মুনাফা কমায় গ্রামাঞ্চলে বাড়তে পারে ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্য।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের পারিবারিক, পেনশনার, ৫ বছর মেয়াদি ও ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের বাইরে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সেবা হিসেবে সাধারণ ও মেয়াদি হিসেবে আমানত রাখতে পারেন গ্রাহকরা। যেখানে তারা তিনবছর মেয়াদি সঞ্চয় স্কিমে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং সাধারণ হিসাবে সাড়ে ৭ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পেতেন। সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে এ সুদের হার কমিয়ে যথাক্রমে ৬ ও ৫ শতাংশ করে। এছাড়া ৬ মাস অন্তর মুনাফা তোলা যায় এমন আমানতে এক থেকে ৩ বছর মেয়াদি হিসাবে গ্রাহকরা পাবেন ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ।

ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল খন্দকার শাহনূর সাব্বির বলেন, সরকারে এখানে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। দুইটি প্রোডাক্টে এ পরিবর্তন করা হয়েছে। সেটা হলো একটা সাধারণ হিসাব অন্যটা মেয়াদি হিসাব। কিন্তু সঞ্চয়পত্রে সরকারের কোনো নির্দেশনা আমি এখনো দেখিনি।

নতুন সুদ কাঠামোতে গ্রাহকরা হিসাবের ধরণ অনুযায়ী আগের তুলনায় ৩৩ থেকে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা কম পাবেন। যা হতাশ করেছে আমানতকারীদের।

একজন আমানতকারী বলেন, আমি বাহিরে ছিলাম। কিছু টাকা ডাকঘরে রেখে আমি চলতেছিলাম। কিন্তু সরকার দাম কমিয়ে ফেলছে, এখন আমি আর চলতে পারছি না।

ষাটোর্ধ্ব একজন জানান, জমি বিক্রি করে কিছু টাকা এখানে রেখেছি। সরকার এখানেও হাত দিয়েছে। আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।

আর্থিক খাতে আমানতের সুদ হারে ভারসাম্য আনা প্রয়োজন, কিন্তু বয়স্ক, অবসরপ্রাপ্ত, গৃহিণীদের সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্বদেয়ার পরামর্শ দেন অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ।

তিনি বলেন, ডাকঘরে যে সঞ্চয় করছে সেই সুদের হার যদি কমে তাহলে গ্রামে-গঞ্জে ইনফরমাল যে সুদপ্রদানকারীরা আছে তাদের কাছে এ অর্থ চলে যাবে। এজন্য বয়স্ক, অবসরপ্রাপ্ত ও গৃহিণীদের ক্ষেত্রে সঞ্চয়ে বিশেষ সুদহার থাকা উচিত।

এদিকে সঞ্চয়পত্রে ১ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি অনলাইন পদ্ধতি চালুর পর চলতি বছরে বিক্রির গতি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।