SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৭-০২-২০২০ ০৫:২৮:৪৯

শীত শেষে রাজধানীতে বেড়েছে মশার উপদ্রব

dhaka

শীত শেষ হতে না হতে রাজধানীতে বেড়েছে মশার উপদ্রব। আসছে বর্ষা, উঁকি দিচ্ছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। এরইমধ্যে মশার এমন উৎপাত ভাবিয়ে তুলছে নগরবাসীকে। মশক নিধনে নানা কার্যক্রম চলমান থাকলেও পরিকল্পনার ঘাটতি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই কালক্ষেপণ না করে এখনই সমন্বিত, দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ তাদের।

হাতের কিছু অংশ ফাঁকা পেতেই ঘিরে ধরলো হাজার হাজার মশা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটের সামনের অবস্থা এটি। এ দৃশ্য দেখে কে বলবে কিছুদিন আগেই ডেঙ্গুর মতো বড় একটি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠেছে নগরবাসী।

এ যেন ঝাঁক বেঁধে পঙ্গপালের হামলা। মানুষের রক্তের ঘ্রাণে মুহূর্তেই হাজির লাখ লাখ মশা। অনাবৃত কোনো মানুষের দেহ থেকে সব রক্ত চুষে নিতে বুভুক্ষু এ মশক দলের হয়তো খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। মশার হুল থেকে নিস্তার নেই কয়েল জ্বালিয়ে এমনকি হাত-পা ঢেকেও।

একজন জানান, ফাঁকা জায়গায় তাই এখানে মশা একটু বেশি। এখানে ড্রেন আছে, সে কারণে মশা বেশি।

বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা এক কর্মকর্তা জানান, এখানে অনেক মশা কয়েল দিয়ে খুব একটা কাজ হয় না।

মশা মারতে কম হয়নি কামান দাগা। প্রচলিত ওষুধ বদলে আনা হয়েছে নতুন ওষুধ। নেয়া হয়েছে প্রতিবেশী দেশের অভিজ্ঞতাও। কিন্তু ডেঙ্গু মৌসুম কাটতেই যেন হাল ছেড়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। বহাল তবিয়তে রয়ে যাওয়া মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলোই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

সাধারণ লোকজন জানান, ঘরে ও বাইরে সব জায়গায় মশা রয়েছে। মধু পোকার মতো আকঁড়ে ধরে।

অন্য এক জানান, এ মশা সবার জন্য সমস্যা। বিশেষ করে বাচ্চা ও শিশুর দিয়ে বেশি আতঙ্কে থাকি। কেননা ডেঙ্গুর-তো ভয় আছে?

বিশেষ মৌসুম আর বিশেষ মশা চিহ্নিত করে মশক নিধন সম্ভব নয় জানিয়ে নগরবিদরা বলছেন, কার্যক্রম চালাতে হবে বছরব্যাপী সব মশাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, আমাদের যদি মশা ও ডেঙ্গু মুক্ত ঢাকা শহর করতে চাই; তাহলে আমাকে একটানা ৪-৫ বছর মশা মুক্ত করার জন্য ২৪ ঘণ্টা ৩৬৫ দিনের একটা প্রকল্প করতে হবে।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মিজানুর রহমান মামুন বলেন, আমরা প্রত্যেকটা ওয়ার্ডকে ছয়টা ভাগে ভাগ করেছি। শনিবার একটা ব্লকে কাজ করব। বৃহস্পতিবার আরেকটা ব্লকে কাজ করব। যদি আমরা এভাবে কাজ করতে পারি তাহলে ওলি-গলি কোনটাই বাদ যাবে না।

বাসা-বাড়ি, অফিস ও নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি পরিষ্কারেও সচেতন থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

মশক নিয়ন্ত্রণে একদিকে কর্তৃপক্ষের নানা পরিকল্পনা আর প্রতিশ্রুতি অন্যদিকে রাজধানী জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মৃতপ্রায় এমন খালে এক প্রকার অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছে মশা।

নগরবাসী বলছেন, ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া এসব খাল পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা না গেলে বিফলে যাবে সব আয়োজন।