SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ২৬-০১-২০২০ ১১:৩৪:৪৭

চট্টগ্রামে বাড়ছে আরও ৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ

chittognong-water

চট্টগ্রামে গ্রাহকদের সরবরাহ লাইনে যুক্ত হচ্ছে আরো ৯ কোটি লিটার পানি।রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে এক হাজার ৯শ’ কোটি টাকা খরচে হালদা নদীর পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নগরীতে সরবরাহের জন্য শেখ রাসেল পানি শোধনাগার নামের এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে ৪২ কোটি লিটার চাহিদার বিপরীতে ৩৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে ওয়াসা। 

৬০ লাখ নগরবাসীর এ চট্টগ্রামে চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ করতে গিয়ে চরম হিমশিম খেতে হয় ওয়াসাকে। প্রতিদিন নগরীতে প্রায় ৪২ কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকলেও ওয়াসা সরবরাহ করতে পারছিল মাত্র ২৭ কোটি লিটার পানি। এ অবস্থায় ২০১১ সালে হালদা নদী থেকে পানি পরিশোধনের এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ১৮৯০ কোটি টাকার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৩৭৩ কোটি এবং ওয়াসা মাত্র ২৩ কোটি টাকার যোগান দিলেও বাকি ১৪৯৫ কোটি টাকা দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। ময়লা-আবর্জনা এড়িয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় নদীর পানি নিয়ে আসা হয় এই শোধনাগারে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে পানি প্রয়োজনীয়তা যথেষ্ট ছিল। এবং এটা দেয়ার ফলে চট্টগ্রাম শহরে ভালোভাবে পানি সরবরাহ হচ্ছে। এর কারণে শহরে পানির যে সঙ্কট ছিল, সেটা অনেকটা কমে গেছে। এখানে পানি পরিশোধন করে যে পানিটা আমরা দিচ্ছি, সে পানি সম্পূর্ণ পরিষ্কার।

চলতি বছরের জুন মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৯ মাস আগে, অর্থাৎ গত বছরের মাঝামাঝিতে এর কাজ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু সঞ্চালন লাইনে জটিলতার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে পানি সবরাহে কিছুটা দেরি হয়। শেষ পর্যায়ে এ প্রকল্পের আওতায় পরিবর্তন করা হয়েছে ১৭০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন। এছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই পানি পরিশোধন করা হচ্ছে। যে কারণে বোতলজাত পানির সমপরিমাণ গুণগত মান রয়েছে ওয়াসার এ পানিতে।

শেখ রাসেল পানি শোধনাগার প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, কম জায়গার মধ্যে এখানে আমরা পানির প্ল্যানটা নির্মাণ করতে পেরেছি। এখানে আমরা স্লুইস সিস্টেমটাকে ড্রাই করে বের করে দিচ্ছি। এ সিস্টেম আমাদের অন্য কোথায়ও নেই। এখানে পানির গুণগত মান ও পরীক্ষা করার যে যন্ত্রপাতি তা অত্যাধুনিক মানের। যা কোথাও নেই। এ ফলে আমরা শহরে পানি সরবরাহ করতে পারছি।

চট্টগ্রাম ওয়াসার মোট গ্রাহক রয়েছে ৭১ হাজার ১৩০ জন। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৬৪ হাজার হলেও বাণিজ্যিক গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার।