SomoyNews.TV

স্বাস্থ্য

আপডেট- ১৬-০১-২০২০ ১৬:২৮:০৮

সোরিয়াসিস থেকে মুক্তির উপায়

72

সোরিয়াসিস ত্বকের একটি চর্মরোগ জনিত সমস্যা। সোরিয়াসিস রোগে ত্বকে প্রদাহযুক্ত দাগ হয়। এটি একজন থেকে অন্যজনে এমনকি শরীরের এক অংশ থেকে অন্য অংশেও ছড়ায় না।

সোরিয়াসিস এমন একটা ডিজিজ যেখানে স্কিনটা খুব দ্রুত তৈরি হয় ফলে উপরে ২-৩টা লেয়ার পড়তে পড়তে নিচে ১০-১২টা লেয়ার পড়ে যায়। যার কারণে জটিলতা তৈরি হয়। এটা একটা সমস্যা যেটা অনেক সময় ফ্যামিলিতে থাকে। সোরিয়াসিস অনেক সময় মাথার ওপর হতে পারে নখের ওপর হয়। এটা রেড কালার হতে পারে। স্কিনের ওপর মোটা লেয়ার যা ৭ দিনের মধ্যে ১০-১২ লেয়ার পড়ে যায়।

কনুই, হাঁটু ও জয়েন্টগুলোতে দেখা দেয়। এমনকি অল্প থেকে শুরু হয়ে সারা শরীর হয়ে যেতে পারে। যেমন ডায়াবেটিস একটা অসুখ, হাই ব্লাড-প্রেশার একটা অসুখ তেমনি সোরিয়াসিস একটা ক্রনিক ডিজিজ। সোরিয়াসিস স্কিনের ওপর ব্যাপক আকারে হতে পারে।

কিছু কিছু সময় কিছু কিছু মেডিসিনের জন্য সোরিয়াসিস রোগ হতে পারে। আবার কোনো কোনো মেডিসিনে সোরিয়াসিস রোগ বেড়ে যেতে পারে। ম্যালেরিয়ার ওষুধ সেবন এবং স্টেরয়েড-খেলে এটা বেড়ে যেতে পারে। মেডিসিন যেমন অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ ওষুধ বা সোরিয়াসিস আছে এমন মেডিসিন খেলে এ রোগ হতে পারে। ধূমপান, মদ্যপান, উচ্চ রক্তচাপের বিশেষ ওষুধ সেবন, সোরিয়াসিস হলে স্টেরয়েড খাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এ রোগের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে আসা উচিত। এ রোগের জন্য একজন ডার্মাটোলজিস্টকে দেখাতে হবে। হাতুড়ে বা কবিরাজি চিকিৎসায় এ রোগ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সোরিয়াসিস হলে সাধারণত যেসব লক্ষণ ও উপসর্গগুলো দেখা দেয়:

ত্বক পুরু হয়ে যায় এবং লালচে দাগ পড়ে, ত্বক চুলকায় অথবা ব্যথা হয়, কোন কোন ক্ষেত্রে মাথার ত্বক আক্রান্ত হতে পারে এবং হাতের নখের রঙ নষ্ট হয়ে যায় এবং গর্ত (Pitted) হয়ে যায়। সোরিয়াসিসে আক্রান্ত প্রতি দশজনে একজনের বাত (আর্থ্রাইটিস) হতে পারে। একে সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস বলা হয়। এর ফলে হাত ও পায়ের আঙ্গুল, পিঠ, কোমর এবং হাঁটু ব্যথায় আক্রান্ত হয়।

সোরিয়াসিস হওয়ার কারণ:

গলায় সংক্রমণ, ত্বক পুড়ে গেলে বা কেটে গেলে, মানসিক আঘাত, ধূমপান এবং মদপান করলে। সোরিয়াসিসের চিকিৎসা গ্রহণ কালে কোন অবস্থাতেই গর্ভবতী হওয়া যাবে না। এমনকি কোন পুরুষ যদি সোরিয়াসিসের ঔষধ সেবন করেন তাহলে তার সঙ্গিনীকেও গর্ভবতী হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগের ধরণ, মাত্রা এবং রোগীর বয়স অনুসারে ঔষধ সেবন, ক্রিম বা মলম লাগাতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ ও নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। কিছু বায়োলজিক ইনজেকশন আছে যা প্রচুর দাম ছিল আগে, এখন দাম কমে গেছে। সেসব খুব ভালো কাজ করে। অসুখ সারার পরে কী করলে স্কিনটা ভাল থাকবে ডার্মালজিস্টরা বলে দেবেন। মূল কথা হলো- ট্রিটমেন্টের ফলোআপটা বজায় রাখতে হবে।

সোরিয়াসিস জয়েন্টে হতে পারে। জয়েন্টে যদি পেইন থাকে তবে দ্রুত ডার্মাটোলজিস্টদের কাছে যেতে হবে। জয়েন্টগুলো খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট করে ফেলে। তাই এটা তাড়াতাড়ি ট্রিটমেন্ট নেয়া জরুরি।

পরামর্শদাতা: অ্যাপোলো হাসপাতালের ডার্মাটোলজি বিভাগের চিফ কো-অর্ডিনেটর ডা. জেসমিন মঞ্জুর