SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৩-০১-২০২০ ০৫:০৩:৩৬

প্লাস্টিক ব্যবহারে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

plastic-1

পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ প্লাস্টিক, সে কথা সবার জানা। কিন্তু প্লাস্টিক যে মানুষের খাবারে মিশে যাচ্ছে তা কয়জন জানেন? গবেষণা বলছে, পানিতো বটেই, মাছ কিংবা শাকসবজির মাধ্যমেও প্লাস্টিক প্রবেশ করছে মানবদেহে। আর মোড়কজাত খাবার বা প্রসাধনীর মাধ্যমেও প্লাস্টিক ঢুকে যাচ্ছে খাদ্যচক্রে। ফলে ক্যান্সার ও হার্ট-অ্যাটাকের মতো রোগ বেড়েই চলেছে।

অপচনশীল এ পণ্য নষ্ট করছে জমির উর্বরতা। নদীপ্রবাহ থমকে যাচ্ছে, দূষিত হচ্ছে সমুদ্রও। ভেঙে পড়ছে প্রতিবেশব্যবস্থা। বাজারে এমন কোনো পণ্যের দেখা মেলা দায়, যার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে প্লাস্টিকের সম্পর্ক নেই। এ প্লাস্টিক মারাক্তকভাবে পরিবেশ দূষণ করছে এই কথা সবার জানা। তবুও বহুজাত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য সরবরাহ করছে এই প্লাস্টিকের মোড়কেই। কিন্তু কতটা স্বাস্থ্যসম্মত এ প্লাস্টিকে মোড়ানো খাবার?

পরিবেশবাদী সংগঠন এসডোর গবেষণা বলছে, মাটি ও পানিতে মিশে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা শাকসবজি ও মাছে ঢুকে যাচ্ছে। মোড়কজাত করার সময়ও খাবারে মিশছে প্লাস্টিক। এছাড়াও প্রসাধনীতে অবৈধভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে গবেষণায়।

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, যখন এ প্লাস্টিক মাটিতে মিশে যায় তখন শাক সবজি অথবা ফসল এটাকে পুষ্টি হিসেবে গ্রহণ করে। আমরা সেটা খাই। অর্থাৎ এটা ইনডিরেক্ট আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে। আর ডিরেক্ট হচ্ছে, আমি বাজার থেকে প্যাকেজিং খাবার কিনে আনলাম। সেটা বিস্কুটসহ অন্য কিছু হতে পারে। সেভাবেও এটি মানুষের শরীরের প্রবেশ করছে।

খাদ্যচক্রে প্লাস্টিক প্রবেশের কারণেই অ্যালার্জি, কিডনি ও লিভারে ক্যান্সার এবং হার্ট অ্যাটাকের মতো ব্যাধির হার বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার। তিনি বলেন, যেখানে প্লাস্টিকের সংমিশ্রণ রয়েছে, সেটি শরীরে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে। এটি কিডনিসহ লিভার ও ক্যান্সারের মতো রোগ সৃষ্টি করে।

পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি বিএসটিআইয়ের আওতাধীন হলেও খাদ্য উৎপাদনে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোয় গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহমদ বলেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিষয়টি সরাসরি আমাদের কাছে আসে না।

কিন্তু লিখিত আবেদন করেও এ বিষয়ে কথা বলা যায়নি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই’র কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে।