SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১০-০১-২০২০ ০৫:৪৭:৩৬

অতিথি পাখির কলতানে মুখর নীলসাগর

nil-birds-copy

নানা প্রজাতির অতিথি পাখির অভয়াশ্রম আর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের উত্তরের নৈসর্গিক বিনোদন কেন্দ্র নীলফামারীর নীলসাগর। পাখির কিচির মিচির আর জলকেলিতে মুখরিত নান্দনিক এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা বয়সী মানুষ ছুটে আসছেন। নীলসাগরকে শিগগগিরই পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের কথা জানায় জেলা প্রশাসন।

নীলফামারী জেলা সদর থেকে সাড়ে ১৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে গোড়গ্রাম ইউনিয়নে নীলসাগরের অবস্থান। প্রাচীন বিন্নাদীঘি কালের পরিবর্তনে নীলসাগর হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠে। সবুজের সমারোহের মাঝে বিশাল দিঘী। প্রতি বছর শীত মৌসুমের শুরুতে শেষ নভেম্বর থেকে সুদূর সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন শীত প্রধান এলাকা থেকে ছুটে আসে সারালী, বালিহাঁসসহ নানা প্রজাতির পাখি। প্রায় ৩ মাস অবস্থান করার পর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে চলে যাওয়া শুরু করে নিজ ঠিকানায়। নীলসাগরের নীলাভ জলে অতিথি পাখির অবাধ বিচরণে চোখ জুড়িয়ে যায় দর্শনার্থীদের। পাখিদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিতে দিঘী এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধসহ পুলিশি টহলের ব্যবস্থা রয়েছে। পাখি ছাড়াও বিনোদনের ছোট-খাট উপকরণ থাকলেও তা পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ঠ না। দর্শনার্থীদের জন্য দীর্ঘ সময় অবস্থান করার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই নীলসাগরকে আরও সমৃদ্ধ করার দাবি বিনোদন প্রেমীদের।

বিনোদনপ্রেমীরা বলছেন, প্রথবারের মতো নীল মাগরে আসলাম। এটার পরিবেশ আরো ভালো হলে অনেক পর্যটক আসবে। এবার আগের চেয়ে পাখি বাড়ছে। 

বিনোদন কেন্দ্রটিকে আরও সমৃদ্ধ করা হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করেন এ প্রাণিবিদ।

নীলফামারী জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোনাক্কা আলী বলেন, পর্যটন কেন্দ্রটি সমৃদ্ধ জায়গা। যদি আরও সমৃদ্ধ করা হয় তাহলে আরও অনেক পর্যটন সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমি মনে করি।

সমস্যাগুলোর সমাধানসহ পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের কাজ প্রক্রিয়াধীন বলে জানালেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, পাখিদের অভয়াশ্রম বলে নীলসাগরকে অনেকে জানে। তাই যান্ত্রিক কোনও মোটরজান ভিতরে প্রবেশ না করতে পারে সেই বিষয়টি জোরদার করেছি। 

নীলসাগরের আয়তন ৫৪ একর, এর মধ্যে দিঘীর অবস্থান ৩৮ একর জুড়ে।