SomoyNews.TV

সময় বিশেষ

আপডেট- ০২-০১-২০২০ ১০:৪৭:১৬

মাদক ব্যবসায়ীদের নৃশংসতার বলি নিরপরাধ চা দোকানি

madok-murder

দেশজুড়ে চলা অভিযানের মধ্যেই রাজধানীতে মহল্লার মাদক ব্যবসায়ীর নৃশংসতার বলি নিরপরাধ চা দোকানি। মিরপুরে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে ৫ জনকে আটক করা হলেও বাকিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যে। 

আসামিদের জীবননাশের  হুমকিতে আতঙ্কে দিন কাটছে নিহতের পরিবারের সদস্যদের। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

রাজধানীর মিরপুরের কল্যাণপুর নতুনবাজার ৮ নম্বর বস্তির নানা গলি পেরিয়ে যেতে হয় ঘটনাস্থলে।

সময় সংবাদ পৌঁছলে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ীদের অত্যাচারের শিকার এলাকাবাসী জড়ো হন। আর স্বজন হারানোর বেদনা রূপ নেয় ক্ষোভে।

নিহত আবদুল বারেকের মেয়ে কমলা বেগম জানান, আমার বাবাকে যেভাবে মারা হয়েছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, ১০ বছর ধরে একই স্থানে চায়ের দোকান চালাতেন আবদুল বারেক। মো. ফরিদ এ হত্যার মামলার পলাতক আসামি। মাত্র ২ বছর আগে পাশেই জ্বালানি কাঠের দোকান দেয় ফরিদ ও তার পরিবার। প্রকাশ্যে বিক্রি হতো নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। ফরিদের কাছে পাওনা টাকা চাইলে বারেককে মারধর করে তারা।

মো. সুমন, সাদ্দাম হোসেন, মো. সোহেল, মো. ফরিদ, মো. বিল্লাল, মো. শাহবুদ্দিন, মো. সোহেল হত্যার হুমকি দেয় বারেককে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর রাতে মাথা থেঁতলে ও হাত-পা ভেঙে নৃশংসভাবে জখম করা হয় বারেককে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালে করা হয় তার ময়নাতদন্ত। মামলার পর মরিয়া হয়ে ওঠে অভিযুক্ত পরিবারটি।

নিহতের ছেলে ও হত্যা মামলা বাদী মো. ফারুক। নিহতের ছোট ভাই আবদুল খালেক অভিযোগ করে বলেন, আসামিরা সামনের পর ঘুরছে তাদের ধরা হচ্ছে না। ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যে পরিবারটি তার ঠিক পাশেই রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারটির দোকান। ভুক্তভোগী এ পরিবারটি দিন কাটাচ্ছেন চরম আতঙ্কে। এলাকাবাসী এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী ইব্রাহিম রানা ও মো. সিরাজুল ইসলাম মোড়ল এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

মিরপুর মডেল থানার প্রাথমিক তদন্তের পর মামলাটি হস্তান্তর হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্ত শাখায়। 

এদিকে অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জনের মতে, মাদকের দুষ্টচক্র ভেঙে দিতে না পারলে নিরপরাধ মানুষের প্রাণের বলি ঠেকানো যাবে না।
 
ডিএমপির উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, মাদক এমন একটি অপরাধ যার সঙ্গে অন্যান্য অপরাধের যোগসূত্র থাকে। 

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বলেও জানান তিনি।