SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ২৯-১২-২০১৯ ০৬:৩৯:২৮

রং-সুতার দাম বৃদ্ধি ও ভারতীয় শাড়ির ছোবলে বন্ধের পথে তাঁতশিল্প

siraj-tat

একদিকে সুতার রং সহ তাঁত শিল্পের সরঞ্জামের দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে দেশের কাপড়ের বাজার ভারতীয় শাড়ির দখলে চলে যাওয়ায় উৎপাদিত কাপড় নিয়ে বিপদে তাঁত মালিকরা। বাধ্য হয়ে অনেক তাঁত মালিক কারখানা বন্ধ করে দেয়ায়, বেকার হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। তবে প্রশাসন বলছে তাঁত শিল্পের সব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে তারা। 

এক সময় দিনের আলো ফোটার সাথে সাথেই সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, শাহজাদপুর, এনায়েতপুর ও উল্লাপাড়া তাঁত পল্লীগুলোতে শুরু হতো তাঁত বুননের খটখট শব্দ, একই সাথে পাল্লা দিয়ে চলতো পাওয়ার লুমও। কিন্তু বর্তমানে দফায় দফায় সুতা, রং, শ্রমিকের মজুরিসহ তাঁত শিল্পে ব্যবহৃত সরঞ্জামের দাম বৃদ্ধিতে ক্রমাগত লোকসান গুণতে হচ্ছে তাঁত মালিকদের। সুতা,রং এর পাশাপাশি বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও। আর দেশের কাপড়ের বাজারগুলোতে ভারতীয় শাড়িতে সয়লাব হওয়ায় তাঁত শিল্পে উৎপাদিত কাপড়ের চাহিদা কমে গেছে। ফলে অনেক মালিক বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিচ্ছেন তাঁত কারখানা। এতে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছেন।

এক তাঁতী বলেন, তাঁতের কাপড়ের চাহিদা এখন অনেক কমে গেছে। তাছাড়া ভারত থেকে চোরাই পথে কাপড় আসার কারণে দামের দিক থেকে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।  

আরেকজন বলেন, রং-সুতা প্রতিটা জিনিসের দাম বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখা কষ্টকর হবে। 

সরকারের সঠিক নজরদারি হলেই তাঁত শিল্পকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব বলে মনে করেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক একরামুল হক রিজভী। তিনি বলেন, রং এবং সুতার বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একটি মনিটরিং টিম গঠন করা দরকার। এর পাশাপাশি এই শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে সরকারি ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিলে তাঁত শিল্পের হারানো ঐতিহ্যে ফিরে আসবে। 

তাঁত ব্যবসায়ীদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থাসহ বিদেশী শাড়ি যেন না আসতে পারে সে ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানালেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসন কড. ফারুক আহাম্মদ। তিনি বলেন, তারা যেনো স্বল্প সুদে লোন পেতে পারে সে জন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। একসঙ্গে এই শিল্পকে দেশ বিদেশে পরিচিত করা জন্য প্রয়োজন পদক্ষেপের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। 

জেলায় তাঁত, পাওয়ার লুম ও হ্যান্ডলুম রয়েছে প্রায় ৫ লাখ। আর এর সাথে জড়িত ১৫ লাখ শ্রমিক।