SomoyNews.TV

শিক্ষা সময়

আপডেট- ২৪-১২-২০১৯ ১৯:৩৪:১০

‘শিক্ষার পদ্ধতি প্রয়োগের আগে শিশু মনস্তত্ত্ব নিয়ে ভাবতে হবে’

jsc-psc-reax

জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলেন, যে কোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করার আগে তার স্থায়িত্ব ও শিশু মনস্তত্ত্ব নিয়ে ভাবতে হবে। নয়তো বারবার শিশুদের গিনিপিগ করা হবে, যার মাসুল দীর্ঘমেয়াদী। 

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বোর্ডের পরীক্ষার ভীতি দূর করা এবং মেধাবী ও দরিদ্রদের মাঝে বৃত্তির নিয়মানুযায়ী বৃত্তি প্রদানের সুবিধার্থে ২০০৯ সালে চালু করা হয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা। এতে সকলের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ থাকলেও শিক্ষা অর্জন ও উৎকর্ষ সাধনের মন্ত্র থেকে তা প্রতিযোগিতায় রূপান্তরিত হয়। ফলে একদিকে বাড়ে বইয়ের বোঝা অন্যদিকে বাড়ে ভালো ফলাফল করার প্রতিযোগিতা। এ কারণে পরীক্ষা দুটো বাদ দেয়ার কথা ভাবছে সরকার।

উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও শিক্ষাবিদরা বলছেন, বারবার শিক্ষানীতিতে পরিবর্তনের মাসুল গুণতে হবে পুরো একটি প্রজন্মকে।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক কায়কোবাদ বলেন, পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষার কারণে সূচনা করার ফলে পাবলিক পরীক্ষার সংখ্যা বেড়ে গেছে। ছাত্রদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। ২০১০ সালে যে শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছিল, সেখানেও সুপারিশ করা হয়েছিল যে এই পরীক্ষাগুলোর প্রয়োজন নেই।

শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্ব বুঝে শিক্ষানীতি করা উচিৎ, যা সবসময় অগ্রাহ্য করা হয়েছে।

শিক্ষাবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষার্থী নেই, আছে শুধু পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা যতো কম থাকবে শিক্ষার্থী বেশি শিখবে। আর শিশুদের জন্য শিক্ষাকে আনন্দময় করলে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে প্রতিযোগিতামূলক আচরণের চাপ কমাতে অভিভাবকদেরও লাগাম টানতে হবে সন্তানকে নিয়ে উচ্চাভিলাষের।