SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon আন্তর্জাতিক সময়

আপডেট- ১৬-১২-২০১৯ ১১:৫৫:২৯

সহিংস ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল ভারত

ind-16dec-5pm-

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে ভারতজুড়ে শুরু হয়েছে সহিংস ছাত্র আন্দোলন। রোববার রাতভর দিল্লির জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতার পর সোমবার সকাল থেকেই তা ছড়িয়ে পড়ে লক্ষ্ণৌ, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এদিকে, রোববার রাতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংস হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে রোববারের ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালেও ভারতের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। তারা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করায় ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করে। এসময় লক্ষ্ণৌ'র নদ্বা কলেজের শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।

এর আগে, রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির জামিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। এসময়, তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। অনলাইনে প্রকাশিত ছবিতে, পুলিশকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তাণ্ডব চালাতে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে। এমনকি, শিক্ষার্থীদের বাইক ভাঙচুর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে আগুন দিতেও দেখা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরকে। এতে, আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। যদিও, সহিংসতার জন্য উল্টো শিক্ষার্থীদেরকেই দায়ী করে পুলিশ।

দিল্লির জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই রোববার রাতে নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে উত্তর প্রদেশের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, হায়দ্রাবাদের মওলানা আজাদ উর্দু বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারসের হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের ওপরও চড়াও হয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এসময় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হলেও, পরে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রাতভর আন্দোলনের পর সোমবার সকালে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও, রোববার রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে, সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান ভারতের প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বদে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে সরকারের কাপুরুষতা বলছে প্রধান বিরোধী-দল কংগ্রেস। আর আন্দোলনে সহিংসতার জন্য কংগ্রেসকে ইঙ্গিত করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি।

গেল বৃহস্পতিবার সংশোধিত নাগরিকত্ব বিলে স্বাক্ষর করে একে আইনে পরিণত করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কবিন্দ। এরপর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ।