SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১৫-১২-২০১৯ ০৯:১২:২৫

আওয়ামী লীগের ২১তম কাউন্সিল: প্রস্তুত হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

al-council

দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দিনরাত সমানতালে এগিয়ে চলছে প্রস্তুতি।

গতবারের মতো এবারও  সম্মেলনের মঞ্চ হচ্ছে বিশাল আকারের নৌকার আদলে। থাকছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বর্ণিল আলোকসজ্জা। এ কারণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে দিনরাত কাজ করছেন। 

সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত সবগুলো উপ-কমিটি দলের সবচেয়ে বড় এই আয়োজন সফল করতে ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি সভা করে যাচ্ছে। জোরালো প্রস্তুতির মধ্যে চলছে উৎসবের আমেজ। সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কাউন্সিল উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকবে বর্ণাঢ্য আয়োজন। গেট থেকে মাঠে প্রবেশের পথে দুপাশে রাখা হবে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতির ছবি। বিলবোর্ডে থাকবে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং সরকারের সফলতা তথ্য। থাকবে দলের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার দায়িত্বগ্রহণের স্মরণীয় দিনের ছবিসহ পত্রিকার নিউজের ডিসপ্লে।

মাঠের চারপাশে ব্যানার ফেস্টুনে তুলে ধরা হবে আওয়ামী লীগের অর্জন ও ইতিহাস। প্রবেশ গেট তৈরি প্রায় শেষ হওয়ায় চলছে প্যান্ডেল তৈরি। সাথে সাথে চলছে মঞ্চ নির্মাণের কাজও। সম্মেলনের আগেই সব প্রস্তুতি শেষ হবে। আলোকসজ্জার কাজও চলছে জোরালোভাবে।

জানা গেছে, ২০ ডিসেম্বর দুপুরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে উদ্বোধন করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের সম্মেলনের স্লোগান নির্ধারণ হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণে গড়তে সোনার দেশ, এগিয়ে চলছি দুর্বার আমরাই তো বাংলাদেশ’।

মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী দলটির দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে সম্মেলনে আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথি, দলীয় কাউন্সিলর, অর্ধ লক্ষাধিক প্রতিনিধিসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এ উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে কয়েকস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকায়ও নজরদারী থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর।

এবারও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। আওয়ামী লীগের নিজস্ব ফেইসবুক পেইজ থেকে সরাসরি ফেসবুকে প্রচার করা হবে। অতিথিদের সুবিধার্থে ৫টি বড় পর্দায় সম্মেলন দেখানো হবে।

সম্মেলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সম্মেলনের দিন দুপুর ৩টায় জাতীয় পতাকা এবং দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর বেলুন এবং কবুতর ওড়ানোর পর মঞ্চে দলীয় সভাপতি আসন গ্রহণ করবেন। 

এরপর দলীয় সংগীত-দেশাত্মবোধক সংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর শোক প্রস্তাব ও এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে সভাপতির উদ্বোধনী ভাষণ। সভাপতির ভাষণের পর সাধারণ সম্পাদকের সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ শেষে আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিদের ভাষণ। এরপর মধ্যাহ্নভোজনের বিরতি। বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে প্রত্যেক জেলা থেকে একজন করে কাউন্সিলর বক্তব্য রাখবেন। বক্তব্য চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম দিনের অনুষ্ঠান। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হবে ২১ ডিসেম্বর। এদিন কাউন্সিল অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সারা দেশের কাউন্সিলররা তাদের মতামতের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন করবেন। সাধারণত কাউন্সিল অধিবেশনে দলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন কাউন্সিলরা। এবারের সম্মেলনেও সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনর্নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। পুনর্নির্বাচিত হলে এ টার্ম নিয়ে তিনি নবম বারের মতো সভাপতি হবেন।

দলীয় সভাপতির নির্দেশে পুরোদমে চলছে আওয়ামী লীগের জেলা-উপজেলা কাউন্সিল। ইতিমধ্যে ২৯ জেলার কাউন্সিল শেষ হয়েছে। শেষ হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কাউন্সিল। জাতীয় সম্মেলনের আগে বাকি জেলাগুলোর সম্মেলন শেষ করে কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

এর আগে ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় আওয়ামী লীগের ২০ তম জাতীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। আর সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের।

 

আওয়ামী লীগের বিগত কাউন্সিল 

 

আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিল: 

বাংলাদেশ  আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলে সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আওয়ামী লীগের ১৯তম কাউন্সিল: 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৯তম কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

আওয়ামী লীগের ১১ম কাউন্সিল:

 

১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১১তম কাউন্সিলে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনকে আহ্বায়ক করা হয়। 

আওয়ামী লীগের ১০ম কাউন্সিলঃ

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের  দশম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় । এতে সভাপতি হন এ এইচ এম কামরুজ্জামান। ১৯৭৫ সালে ঘাতকের গুলিতে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত হন তিনি। এরপর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

আওয়ামী লীগের ৬ষ্ঠ কাউন্সিলঃ

১৯৬৬ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ৬ষ্ঠ কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হন । ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ। 

আওয়ামী লীগের ৫ম কাউন্সিলঃ

 ১৯৬৪ সালে আওয়ামী লীগের একটি বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় যা  পঞ্চম কাউন্সিল হিসেবে পরিচিত ।  ওই কাউন্সিলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ।  তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত দলের দ্বিতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিবুর রহমান।

আওয়ামী লীগের ১ম কাউন্সিলঃ

আওয়ামী লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।  তিনি ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত চারটি কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ গঠনের পর ১৯৪৯ সালে দলের প্রথম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক।এরপর ওই বছর একটি বিশেষ কাউন্সিলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ। 

১৯৫২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরের বছর ঢাকার 'মুকুল' প্রেক্ষাগৃহে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সম্মেলনে তাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিব। উল্লেখ্য যে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ ছিলো তৎকালীন পাকিস্তানে প্রথম বিরোধী দল।