SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ১৫-১২-২০১৯ ০৫:৪৭:৪৪

বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রতিবন্ধী মেয়েটির 'ধর্ষক'

untitled-19

ডাক্তারি প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামতের স্পষ্ট উল্লেখ আর চার্জশিটভুক্ত মূল আসামি হওয়া সত্ত্বেও, জামিনে বেরিয়ে গেছেন বাচ্চু মিয়া। জামিনে বেরিয়ে এসেই ধর্ষণের শিকার নারীর স্বজন ও সাক্ষীদের দিয়েছেন হত্যার হুমকি। নাজেহাল করতে ভুক্তভোগী পরিবারকে দিয়েছে মিথ্যা মামলা। যা আবার স্বীকার করেছেন বাচ্চুর ভাই।

স্বাভাবিক মানুষের মতো মুখের ভাষা নেই তার। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েটি শিকার হয়েছে ধর্ষণের মতো নির্মমতার। বিচার চাইতে গিয়ে এখন পুরো পরিবার দিন কাটাচ্ছে জীবননাশের আতঙ্কে।

নির্যাতিতার বড় বোনেরা বলেন, বাচ্চু মিয়ার ছোটভাই বাহার বলে, তোমরা যদি বেশি বাড়াবাড়ি করো তাহলে তোমাদের বোনের যে দশা হয়েছে তোমাদেরও একই দশা হবে।

অথচ, বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন 'ধর্ষক'। ঘটনার শুরু ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসুদেব গ্রামে।

নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী সত্তরোর্ধ্ব বাচ্চু মিয়া ধর্ষণ করে বাক ও মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তানকে। মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন চিকিৎসক। ঘটনার ৬ মাস পর, বাচ্চু মিয়াকে অভিযুক্ত করে চার্জশিটও দেন তদন্ত কর্মকর্তা। তারপরেও এ বছরের ২৭ নভেম্বর আসামির জামিন আবেদনের প্রেক্ষিতে জামিন মঞ্জুর করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু বিচার ট্রাইবুন্যাল-২ এর বিচারক সাইফুল ইসলাম।

নির্যাতিতার মা বলেন, আমি ভিক্ষা করে খাইতে রাজি আছি। কিন্তু আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের ইজ্জত বিক্রি করতে রাজি না। আমি একটু ন্যায়বিচার চাই।

এদিকে, সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সময় সংবাদ টিম ও নির্যাতিতার পরিবারের প্রতি চড়াও হয় আসামির পরিবার।

বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা আর জীবননাশের হুমকির।

মামলার সাক্ষী নয়ন মিয়া বলেন, আমি মামলার সাক্ষী। আমাকে টাকা পয়সা দিতে চেয়েছে, বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছে কিন্তু আমি রাজি হইনি। এখন আমার নামে তিনটা মামলা রেডি করেছে।

আসামির ভাইয়ের স্বীকারোক্তি, নির্যাতিতার স্বজন ও মামলার সাক্ষীর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদক বিক্রির মামলাটি বানোয়াট। আর, অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়া ধর্ষণের অভিযোগকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেয়।

আসামির ছোটভাই বাহার বলেন, সে একটা ৭ ধারার মামলা করেছে। আমি সবই জানি। আত্মরক্ষার জন্য মামলা করা হয়েছে।

আর বাচ্চু মিয়া বলেন, আমি ধর্ষণ করিনি। শত্রু যারা আছে তারা তো বলবেই।

ধর্ষণের মতো ঘটনা আগে গ্রাম্য সালিশেই শেষ হতো। কখনো কখনো তাও হতো না। এখন অভিযোগ জানানো শুরু হয়েছে এবং মামলা হচ্ছে। কিন্তু, বিচারপ্রার্থীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, মামলায় জামিন পেয়ে যাচ্ছেন আসামিরা।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশনা ইমাম বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পুরো পরিবার হয়রানির শিকার হচ্ছে। সেক্ষেত্রে পরিবারের দিক থেকেও একটা প্রেসার থাকে যে, পুলিশের কাছে যেও না, মামলা করো না। বা করলেও মামলাটা তুলে নাও। এখন আমাদের প্রয়োজন উইটনেস প্রটেকশন প্রোগ্রাম।

বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে এ আগেও ধর্ষণের অভিযোগ ছিল। সেই ঘটনায় বিচার পাননি ভুক্তভোগী। ধর্ষণের পুনরাবৃত্তি রোধে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।