SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon মহানগর সময়

আপডেট- ১২-১২-২০১৯ ১৫:২৬:১৯

চিকিৎসার পরও মাদকাসক্তরা সুস্থ জীবনে কেন ফিরছেন না?

rehab-two

বার বার চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়েও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন না মাদকাসক্তদের অনেকে। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক অশান্তি আর সঠিক পরিবেশ না পাওয়াকে দায়ী করছেন বেশির ভাগ রোগী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসাসহ নানামুখি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রথমে গাঁজা তারপর মদ, হেরোইন আর সবশেষ বুপ্রেনরফিনে আসক্তি। একসময়ে বড় ব্যবসায়ী জাহিদ মাদকের কারণে হারিয়েছেন সর্বস্ব। নিয়েছিলেন চিকিৎসাও। তবে কেন ফেরা হলোনা সুস্থ জীবনে?

জাহিদ বলেন, 'রিহ্যাবে গিয়ে ২ বছর ভালো ছিলাম। আবার বাড়ি সৎ মার জন্য আবার এসে পড়ছি এ মরণ নেশায়।'

কেবল জাহিদ নয়, অনেকেই আছেন চিকিৎসা নিয়েও ছাড়তে পারেন নি মরণ নেশা।

আরো এক মাদকাসক্ত ব্যক্তি বলেন, 'আমাকে ৮ বার রিহ্যাবে যেতে হয়েছে, জেলেও যেতে হয়েছে। পরিবারই মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে দিয়েছে।'

গবেষণা বলছে, দেশে ৯৮.৯ শতাংশ রোগী পুনরায় মাদক গ্রহণের আগে নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে অন্তত ৩০ থেকে ৯০ দিন আবাসিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের বেশিরভাগ আবার একাধিকবারও চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুনরাসক্তির কারণ হিসেবে পারিবারিক অশান্তি ও বন্ধুবান্ধবের প্ররোচনার কথা উল্লেখ করেন বেশির ভাগ রোগী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক থেকে যুবসমাজকে ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় সংযুক্ত করতে হবে পরিবারকে। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতিও আধুনিক করার তাগিদ তাদের।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সালাহ্ উদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, 'রাষ্ট্র যেটি করতে পারে মাদকাসক্ত লোকগুলোকে চিহ্নিত করে কার কি ধরনের সহায়তা দরকার সে ধরনের চিকিৎসা দিতে হবে।'

এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহা পরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ।

তিনি বলেন, 'আমাদের দিক দিয়ে আন্তরিকতার স্বদিচ্ছার ঘাটতি নেই। তবে সরকারের একা র পক্ষে এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রত্যেককে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।'

আসক্তরা নানাভাবে জড়িয়ে থাকেন মাদকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত সহায়তায় সঠিক চিকিৎসাসহ নানামুখী পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এতে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাও সম্ভব হবে।