SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ০৭-১২-২০১৯ ১৬:৩৮:৩৪

সড়কবিহীন ব্রিজ-কালভার্ট এখন ‘বিষফোঁড়া’

-n

গ্রামের মানুষের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কবিহীন ব্রিজ কালভার্ট। নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের তিয়শ্রী গ্রামের মানুষের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে এলজিইডি বাস্তবায়িত সড়কবিহীন ব্রিজ কালভার্টগুলো। মদন ফতেপুর সড়কের প্রায় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ৭টি ব্রিজ কালভার্ট। ১৯৯১ সনের দিকে ব্রিজ হলেও হয়নি আজো সড়ক। এগুলোর খোঁজ রাখে না কেউ। যার জন্য মানুষ ধান নিয়ে রিক্সা সাইকেল এমনকি ভালোভাবে হেঁটেও যেতে পারেন না। ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ অন্য সড়ক দিয়ে ঘুরে চলাচল করতে হয় কয়েকটি গ্রামের মানুষকে। 

নেত্রকোনা জেলার হাওরাঞ্চলের একটি উপজেলা মদন। ২২৫.৮৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুরে ৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে অবস্থিত উপজেলার অধিকাংশই বর্ষায় থাকে পানির নীচে। এই এলাকার প্রধান ফসল হচ্ছে ধান। আর এই হাওরাঞ্চলের একটি মাত্র ফসল হয় শুকনো মৌসুমে। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা ব্রিটিশ আমলের পর থেকে একই রকম। কোন উন্নয়ন নেই। বরং কিছু কিছু এলাকায় উন্নয়নের নামে লুটপাটের কাজের খেসারত দিতে হচ্ছে আপামর জনসাধারণকে। তিয়শ্রী ইউনিয়নের মদন ফতেপুর তিয়শ্রী গ্রামীণ প্রায় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার সড়ক যেনো কৃষকসহ এলাকাবাসীর বিষফোঁড়া। 

১৯৯১ সনে সড়কটিতে বেশ কয়েকটি ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ হলেও আজো নির্মিত হয়নি সড়ক। অল্প দূরত্বের সড়ক রেখে কৃষকদের ধান আনা নেয়াসহ চলাচল করতে হয় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার বাড়তি পথ ঘুরে। এই ভোগান্তি যেনো শেষ হবারই নয়। এলজিইডির বাস্তবায়নে নির্মিত ব্রিজ কালভার্টগুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে। সড়কটি জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসী ও কৃষকরা বলছেন এই ব্রিজ কালভার্ট না থাকলে তাদের জন্য ভালো হতো। ধান নিয়ে পায়ে হেঁটে হলেও চলাচল করা যেতো। কিন্তু ব্রিজ কালভার্টের কাড়নে সড়কে উঠানামাই করা যায়না। সেখানে ধান নিয়ে চলাচলের তো প্রশ্নই আসে না। একটি সড়কে ৭ টি ব্রিজ কালভার্ট থাকায় এলাকাবাসী এখন ক্ষুব্ধ। চার থেকে পাঁচটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন তারা বলে কয়েও এর কোন কাজ করাতে পারছেননা বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।  

এদিকে এ ব্যাপারে কথা বলতে দুদিন নেত্রকোনা এলজিইডি ভবনে ঘুরে ফোন করেও নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামানকে পাওয়া যায়নি। তবে অন্যান্য অনুষ্ঠানে দেখা মিললেও এ ব্যাপারে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। দুদিন ঘুরে সহকারী প্রকৌশলী পরিতোষ দাসকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেলেও তিনিও ক্যামেরার সামনে কথা বলেননি। তবে তিনি জানান তিয়শ্রীর এই ৫ কিলোমিটার সড়কে মাত্র দুটি কালর্ভাট। কোন ব্রিজ নেই। এটি একটি গ্রামীণ সড়ক বলে বিষয়টিকে তিনি উড়িয়ে দেন। 

৬৮০ ঘনত্বে এই উপজেলার মোট ১৫৪৪৭৯ জনসংখ্যার মধ্যে কৃষকের সংখ্যাই বেশি। কিন্তু তাদের ভ্যাগ্য বদলে নানা প্রতিশ্রুতি শুধু কথামালাতেই সীমাবদ্ধ থাকায় আজীবন দুর্ভোগেই থাকেন তারা। যাদের দারা খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় তাদের খোঁজ রাখে না কেউ।