SomoyNews.TV

Somoynews.TV icon বাংলার সময়

আপডেট- ০২-১২-২০১৯ ০৪:৪১:২০

গাইবান্ধায় আমন ধান নিয়ে অখুশি কৃষকেরা

gai-rice

ভালো ফলনের পরও আমন নিয়ে খুশি হতে পারছেন না গাইবান্ধার কৃষক। সরকারের ধান সংগ্রহের ঘোষণা কৃষকের বুকে আশা জাগালেও তেমন কোন অগ্রগতি নেই। ফলে কম দামেই ব্যাপারির ঘরে ধান দিতে বাধ্য হচ্ছে কৃষক। সঠিক সময়ে ধান সংগ্রহ করতে না পারার কারণ বলতে নারাজ খাদ্য বিভাগ।

কৃষি বিভাগের ভাষায় বোরোর পর এবার আমনেও বাম্পার ফলন হয়েছে। সবুজ ফসলের মাঠে সোনালী রঙ ধরেছে ধানের শীষে। মাঠে মাঠে কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক। দ্রুত আলুসহ রবি শস্যের বীজ বপনের তাড়া থেকে টাকার প্রয়োজনে হাটে ধান বেচতে গিয়ে ন্যায্য দাম না পেয়ে শুধুই হতাশা।

এক কৃষক জানান, আমার আবাদ করে পোষাচ্ছে না, সাড়ে ছয়শত টাকা ধান বিক্রি করেছি। এইবার থেকে আর করবো না।

আরেকজন কৃষক জানান, সরকার ধানের দাম দিয়েছে ১০৪০ টাকা। কিন্তু আমরা এই দাম পাচ্ছি না।

বাজারে চালের চাহিদা না থাকার অজুহাত দিয়ে ব্যাপারিরা বলছেন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী এখনো ধান সংগ্রহ শুরু করতে না পারার কারণে ধানের দর বাড়ছেনা।

ব্যাপারিরা জানান, বাজারে চাল কম খাচ্ছে, এর কারণে বাজারটা কম। আবার চাহিদা বেড়ে গেলে দাম বাড়তে পারে।

অন্য এক ব্যাপারি জানান, ধান ক্রয় করি ৩০ টাকায়। আর চাল বিক্রি করতে হয় ২৮ টাকায়। তাহলে কীভাবে ধান ক্রয় করি।

কৃষক নেতারা বলছেন, দফায় দফায় লোকসানের হাত থেকে পোড় খাওয়া কৃষককে বাঁচাতে না পারলে তাদের নি:স্ব হতে দেরি নেই।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, কৃষককে বাঁচাতে হলে সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। যাতে কৃষক ধানের নায্যমূল্য পায়।

গত ২০ নভেম্বর ১৩ হাজার ৪০৪ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা ধরে খাদ্য বিভাগের ধান সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সরকার নির্ধারিত সময়ে ধান সংগ্রহ করতে না পারার কারণ সম্পর্কে কথা বলতে চাননি জেলা খাদ্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গাইবান্ধা জেলায় ১ লাখ ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে ৫ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ধানের উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।